20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন সুতা আমদানির অসম সুবিধা বন্ধের দাবি জানিয়েছে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন সুতা আমদানির অসম সুবিধা বন্ধের দাবি জানিয়েছে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (BTMA) গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সুতা আমদানিতে বিদ্যমান অসম সুবিধা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে দেশের টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের সঙ্কট মোকাবেলায় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। দাবি করা হয়েছে যে, এই সুবিধা দেশীয় মিলগুলোকে অপ্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় ফেলছে।

বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল নেতৃত্বে স্পিনিং মিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত সকল সদস্য একমত হন যে, প্রতিবেশী দেশের ভর্তুকিপ্রাপ্ত সুতা শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা বাংলাদেশে প্রবেশের ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা মূল্যসংকটে পড়ছে।

বিটিএমএর সভাপতি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের মিলগুলো সরকারী প্রণোদনা ও বন্ড সুবিধার কারণে প্রতি কেজি সুতা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ সেন্ট কম দামে বাংলাদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম। এই মূল্য পার্থক্য স্থানীয় উৎপাদনকারীদের জন্য মারাত্মক প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি আগের বছরের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তীব্র বৃদ্ধি দেশীয় বাজারে সরবরাহের অতিরিক্ততা এবং মূল্যহ্রাসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফলস্বরূপ, ইতিমধ্যে ৫০টি দেশীয় স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অতিরিক্ত ৫০টি মিলের বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই বন্ধের ফলে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা শিল্পের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে পূর্বে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সকল টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে। এই পদক্ষেপটি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

মিল মালিকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুসারে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সুবিধা বাদ দিলে দেশীয় উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত হবে এবং মূল্যসংকট কমবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, সরকারী নীতি সংশোধন এবং বন্ড সুবিধার পুনর্বিবেচনা শিল্পের পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সুতা আমদানির অসম সুবিধা বন্ধ না হলে টেক্সটাইল সেক্টরের রপ্তানি ক্ষমতা এবং বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যাবে। এছাড়া, শ্রমিকসংখ্যা হ্রাসের ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়বে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সুতা মূল্যের অস্থিরতা এবং বিদেশি ভর্তুকি দেশীয় শিল্পের মার্জিনকে ক্ষয় করে। যদি সরকার দ্রুত নীতি পরিবর্তন না করে, তবে টেক্সটাইল মিলের বন্ধের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং রপ্তানি আয় হ্রাস পেতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, বিটিএমএর দাবি পূরণ হলে সুতা আমদানি মূল্য স্থিতিশীল হবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা মিলগুলো পুনরায় চালু হতে পারে। তবে, নীতি পরিবর্তনের গতি এবং বাস্তবায়নের সঠিকতা শিল্পের পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন সুতা আমদানির অসম সুবিধা বন্ধের মাধ্যমে টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের সঙ্কটমুক্তি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা পুনরুদ্ধারের দাবি তুলে ধরেছে। সরকারী পদক্ষেপের অপেক্ষায় শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নীতি সংশোধনের গতি ও কার্যকারিতার ওপর।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments