ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গুগল জেমিনি ব্যবহার করে ফেডারেল নিয়মাবলী খসড়া করার পরিকল্পনা চালু করেছে, যা প্রথমে পরিবহন বিভাগে (DOT) প্রয়োগ হবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য নিয়ম প্রণয়নের সময় কমিয়ে আনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা। সরকারী কাজের স্বয়ংক্রিয়করণে AI-র ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন (DOT) এর কর্মীদের সঙ্গে গত মাসে এই পরিকল্পনা ভাগ করা হয়। বিভাগীয় আইনজীবী ড্যানিয়েল কোহেন AI-র “নিয়ম প্রণয়নের পদ্ধতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা” নিয়ে একটি নোট পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি দ্রুততা ও নির্ভুলতার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। এই নোটটি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে বিতরণ করা হয়।
DOT এর জেনারেল কাউন্সেল গ্রেগরি জারজান উল্লেখ করেছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগে “খুবই উচ্ছ্বসিত” এবং পরিবহন বিভাগ প্রথম সংস্থা হবে যা সম্পূর্ণভাবে AI ব্যবহার করে নিয়ম খসড়া করবে। তিনি এই পরিকল্পনাকে প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই পদক্ষেপকে একটি পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ফেডারেল সংস্থায় AI প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, AI-কে নিয়মের প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হবে, পর্যালোচনা ও সংশোধন মানব কর্মীরা করবেন। পাইলটের ফলাফল ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রোলআউটের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
জারজানের মন্তব্যে দেখা যায় যে তিনি নিয়মের গুণগত মানের চেয়ে দ্রুততা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি এক সভার ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখ করেন, “আমাদের নিখুঁত নিয়মের দরকার নেই, যথেষ্ট ভাল নিয়মই চলবে।”
পরিবহন বিভাগ বাণিজ্যিক বিমান, বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন এবং চালকের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিরাপত্তা মান নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে। এই নিয়মগুলো রোড, রেল, বায়ু ও সমুদ্র পরিবহনের সব দিককে প্রভাবিত করে।
AI-র ভুলের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, প্রশাসন দ্রুততা বাড়াতে AI-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জটিল ফেডারেল নিয়ম প্রণয়নে সাধারণত মাসের পর মাস সময় লাগে, যেখানে গুগল জেমিনি কয়েক মিনিটে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করতে পারে। তবুও, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে মানব বিশেষজ্ঞদের কঠোর পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক থাকবে।
একটি অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা অনুযায়ী, বর্তমান নিয়মের অনেক অংশকে “শব্দের সালাদ” বলা হয়, যা AI-র জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ কাজ। তাই AI-কে এই কাজের জন্য উপযুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জারজান উল্লেখ করেন, “গেমিনি থেকে একটি খসড়া নিয়ম পেতে ২০ মিনিটের বেশি সময় লাগবে না।” এই সময়সীমা কমিয়ে DOT নিয়মের রচনা ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে চায়।
DOT ইতিমধ্যে গুগল জেমিনি ব্যবহার করে একটি অপ্রকাশিত ফেডারেল নথি খসড়া করেছে, যা ভবিষ্যতে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পাইলট প্রোগ্রামের কার্যকারিতা মূল্যায়নে সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সরবরাহ করবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি ও নীতি প্রণয়নের সংযোগকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। যদি সফল হয়, তবে অন্যান্য সংস্থার নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়ায়ও AI-র ব্যবহার দ্রুত বাড়তে পারে।
তবে নিরাপত্তা ও সঠিকতা নিশ্চিত করতে মানব তদারকি অপরিহার্য থাকবে। AI-র দ্রুততা এবং মানবিক পর্যালোচনার সমন্বয়ই ভবিষ্যতে কার্যকর নিয়ম প্রণয়নের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
এই উদ্যোগের ফলাফল ফেডারেল নিয়মের গুণগত মান, প্রকাশের গতি এবং জনসাধারণের নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



