প্রাক্তন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার সোমবার সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা শেয়ার করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচে ভক্তদের না আসার পরামর্শ দেন। তিনি নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ভ্রমণ বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক ফুটবল সমাবেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে।
ব্লাটার সুইস অ্যান্টি-করাপশন আইনজীবী মার্ক পিয়েথের মন্তব্যের পক্ষে সাড়া দিয়েছেন, যিনি ব্লাটার ফিফা প্রেসিডেন্সির সময় ফিফার সংস্কার প্রকল্পে সহযোগিতা করতেন। পিয়েথের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশে ভক্তদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ব্লাটার তার সামাজিক পোস্টে পিয়েথের প্রশ্নকে সমর্থন করে বলেছেন, “আমি মনে করি পিয়েথের উদ্বেগ যথার্থ”।
পিয়েথের উদ্বেগের পেছনে দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। একদিকে, মিনিয়াপোলিসে একটি আমেরিকান ইমিগ্রেশন এজেন্টের হাতে প্রতিবাদকারী রেনি গুডের নিহত হওয়া, যা সম্প্রতি ঘটেছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুও এই আলোচনাকে তীব্র করেছে। উভয় ঘটনা নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
পিয়েথ ভক্তদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, টেলিভিশনে ম্যাচ দেখলে যথেষ্ট হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও সতর্ক করেছেন, যদি ভক্তরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সঠিকভাবে আচরণ না করে, তবে তৎক্ষণাৎ দেশ থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভাগ্যবান হলে হয়তো কিছুটা সময়ের জন্যই দেশে থাকতে পারবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো নির্ধারিত হয়েছে, এবং টুর্নামেন্টটি ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। তিনটি দেশ একসঙ্গে ম্যাচের আয়োজন করবে, যা প্রথমবারের মতো উত্তর আমেরিকায় একাধিক দেশের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
ব্লাটার ২০১৫ সালে একাধিক স্ক্যান্ডেলের পর ফিফা প্রেসিডেন্সি থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার পরের দায়িত্বে গিয়ানি ইনফ্যান্টানো গ্রহণ করেন। ইনফ্যান্টানো তার মেয়াদে ফিফার গঠন ও পরিচালনায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন, তবে তার নেতৃত্বের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে।
ইনফ্যান্টানোর নিকটতম রাজনৈতিক সংযোগের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় ইনফ্যান্টানো যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল নীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। এই সম্পর্কটি কিছু ভক্তের মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্লাটার এবং প্রাক্তন ইউইফা প্রধান মিশেল প্লাটিনি গত বছর একটি আর্থিক মামলায় সম্পূর্ণভাবে দোষমুক্ত ঘোষিত হয়েছেন। মামলাটি ২০১১ সালে ফিফা দ্বারা প্লাটিনির পরামর্শ সেবার জন্য দুই মিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক (প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধে দেরি হওয়ার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ছিল। আদালত উভয়কে অপরাধমুক্ত করে দেয়।
মিশেল প্লাটিনি সম্প্রতি ইনফ্যান্টানোর নেতৃত্বের শৈলীর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন, তিনি এখন আরও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছেন এবং ধনী ও শক্তিশালী ব্যক্তিদের পছন্দ করেন। এই মন্তব্যগুলো ইনফ্যান্টানোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্লাটার ও পিয়েথের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে তীব্র করেছে। ভক্তদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা ও নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থা নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে।



