সপ্তাহান্তের সর্বোচ্চ দৃষ্টিগোচর ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর্সেনালের ঘরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হ্যান্ডবাল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে রেফারি ক্রেগ পসন এবং ভিডিও সহকারী রেফারি পল টিয়ার্নি যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে, ইউনাইটেড ২-১ এগিয়ে থাকায় মিকেল মেরিনোর শট আর্সেনালের ডিফেন্সের মধ্যে গিয়ে হ্যারি ম্যাগুয়ারের বাহুতে আঘাত করে। এই মুহূর্তে পেনাল্টি কলের সম্ভাবনা তীব্রভাবে আলোচিত হয়।
পসন দ্রুত মূল্যায়ন করে দেখেন যে ম্যাগুয়ার তার শরীরকে নিচে নামার সময় স্বাভাবিকভাবে হাত বাড়িয়ে সমর্থন দিচ্ছিল, কোনো অনিয়মিত বা অতিরিক্ত বিস্তার ঘটায়নি। ফলে তিনি হ্যান্ডবাল অপরাধ হিসেবে গণ্য না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই সিদ্ধান্তের পর পল টিয়ার্নি ত্বরিত VAR পর্যালোচনা করেন। ভিডিওতে দেখা যায় শটটি সরাসরি বাহুতে না গিয়ে গলির দিকে অগ্রসর হয়েছে, ফলে পেনাল্টি না দেওয়া আইনগতভাবে সঠিক বলে নিশ্চিত করা হয়।
ম্যাগুয়ারের হাতের অবস্থানকে স্বাভাবিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, কারণ তিনি ডিফেন্সের চাপে পড়ে গিয়ে শটটি বাধা দিতে চেয়েছিলেন। তার দেহকে অনাবশ্যকভাবে বড় করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে বলকে স্পর্শ করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর ভক্ত ও বিশ্লেষকরা রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করলেও, পসনের সামগ্রিক পরিচালনা প্রশংসিত হয়। তিনি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে গেমের প্রবাহ বজায় রাখেন, যা ম্যাচের মূল আকর্ষণকে বজায় রাখতে সহায়তা করে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্যাট্রিক ডোরগু গোলের প্রস্তুতিতে বলটি তার উরুতে স্পর্শ করে, বাহুতে নয়। কিছু দর্শক হ্যান্ডবাল খোঁজার চেষ্টা করলেও, ভিডিও প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে বলটি উরুতে আঘাত করেছে, ফলে গোল বৈধভাবে গৃহীত হয়।
VAR পুনরায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে হ্যান্ডবালের কোনো প্রমাণ নেই, ফলে ডোরগুর গোল রেকর্ডে যুক্ত হয়। এই সিদ্ধান্তও পেনাল্টি না দেওয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, পসনের রেফারিং শৈলী গেমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। তিনি অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ এড়িয়ে, কেবলমাত্র স্পষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে, যা তাকে প্রশংসিত করেছে।
একই সময়ে, ফারাই হাল্লাম ইয়েরসন মোস্কেরার ঘটনার পরেও VAR পর্যালোচনা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় ছিলেন। তার এই পদ্ধতি রেফারিদের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করে, যেখানে স্বতন্ত্র বিচার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিস্টাল প্যালেসের ঘরে ড্যারেন ইংল্যান্ড রেফারিং করেন, যেখানে হ্যান্ডবাল সংক্রান্ত কিছু বিতর্ক দেখা যায়। তবে তার সিদ্ধান্তগুলোও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ছিল এবং VAR দ্বারা সমর্থিত হয়।
এই দুইটি ম্যাচের উদাহরণ দেখায় যে হ্যান্ডবাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রেফারির স্বতন্ত্র বিচার এবং দ্রুত VAR যাচাইয়ের সমন্বয় গেমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি অন্যান্য রেফারিদের জন্য মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে, যা ফুটবলের সামগ্রিক গুণগত মান উন্নত করবে।



