গেওফ্রি মেসন, এবিসি স্পোর্টসের প্রাক্তন প্রযোজক, ৮৫ বছর বয়সে ফ্লোরিডার নেপলসে প্রাকৃতিক কারণেই গত রবিবার মারা গেছেন। পরিবার এই তথ্য ESPN‑কে জানায়। মেসন স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অফ ফেমের সদস্য এবং ২৪টি এমি পুরস্কারধারী ছিলেন।
১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, মিউনিখ অলিম্পিকের সময় ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদ ও কোচদের উপর প্যালেস্টাইনি গোষ্ঠী ব্ল্যাক সেপটেম্বার হোস্টেজের ঘটনা ঘটার সময় মেসন তখন মাত্র ত্রিশের কোঠায় ছিলেন। এবিসি স্পোর্টসের প্রধান রুন আর্লেজের সঙ্গে কাজ করছিলেন তিনি এবং ওই সংকটের লাইভ কভারেজে কী দেখানো হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব তার ওপর পড়ে।
মেসন জানান, কন্ট্রোল রুমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছিল, প্রতিটি মিনিটে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। হোস্টেজের সময় ইসরায়েলি দলের দুইজন সদস্য তৎকালীন সময়ে নিহত হন, এবং পরে বিমানবন্দরে ব্যর্থ রেসকিউ অপারেশনে আরও নয়জন ক্রীড়াবিদ ও একজন পশ্চিম জার্মান পুলিশ অফিসার প্রাণ হারান।
এবিসি-র দীর্ঘমেয়াদী অলিম্পিক অপারেশন প্রধান মার্ভ বেডার মেসনকে জানিয়ে দেন, “মেস, তারা সবাই চলে গেছে।” মেসন এই কথাটি আর্লেজের কাছে পৌঁছে দেন, এবং জিম ম্যাককে সেই তথ্যকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার করেন, ফলে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ রিয়েল‑টাইমে ঘটনাটি দেখেন।
মেসনের ক্যারিয়ার ১৯৬০ দশক থেকে শুরু হয়, যখন তিনি ক্রীড়া টেলিভিশনের প্রথম দিনগুলোতে কাজ শুরু করেন। তিনি বহু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের সরাসরি সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন এবং এবিসি-র অলিম্পিক কভারেজকে বিশ্বমানের শীর্ষে নিয়ে গেছেন।
ক্রীড়া সম্প্রচারে তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অফ ফেমে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ২৪টি এমি পুরস্কার তার কাজের গুণমানের প্রমাণ। এই পুরস্কারগুলো বিভিন্ন ক্রীড়া শো, ডকুমেন্টারি এবং লাইভ ইভেন্টের জন্য প্রদান করা হয়।
২০২৪ সালে পারামাউন্ট পিকচার্স “সেপ্টেম্বর ৫” ছবিতে মেসনের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করা হয়। তিনি স্ক্রিপ্টের উপর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন এবং ছবির মূল কন্ট্রোল রুমের দৃশ্যগুলোতে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়। ছবিটি মূল স্ক্রিপ্টের জন্য অস্কার নোমিনেশন পায়।
হলিউডের অভিনেতা জন মাগারো মেসনের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যেখানে মেসনের কাজের চাপ ও দায়িত্বকে নাট্যরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবিতে মেসনের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বিশ্বকে ঘটনাটির বাস্তবতা জানাতে সাহায্য করেছে তা দেখানো হয়েছে।
মেসনের মৃত্যু ক্রীড়া সম্প্রচার জগতে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার সহকর্মীরা তাকে ক্রীড়া টেলিভিশনের পথিকৃৎ এবং সংকটময় মুহূর্তে শান্ত মাথা রাখার উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করেন।
মেসনের পরিবার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তিনি ক্রীড়া সম্প্রচারের ইতিহাসে যে চিহ্ন রেখে গেছেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
মিউনিখ অলিম্পিকের হোস্টেজের ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শোকজনক ক্রীড়া দুঃখের ঘটনা, এবং মেসনের নেতৃত্বে যে কভারেজ প্রদান করা হয়েছিল তা তথ্যের স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গেওফ্রি মেসনের অবদানকে স্মরণ করে এবিসি এবং ক্রীড়া সম্প্রচার সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে তার মানদণ্ড অনুসরণ করে আরও ন্যায়সঙ্গত ও সঠিক কভারেজ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



