ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক, ২৫ জানুয়ারি মিরপুর-৬ নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনে গণসংযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এমন একটি প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেট বোর্ড গড়ে উঠেছে, যা ইতোমধ্যে জনসাধারণের নজরে এসেছে।
হক বলেন, তিনি গতকালও (২৫ জানুয়ারি) একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং এখনো কোনো পরিবর্তন না দেখেছেন। তার মতে, এই বোর্ডের গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে নির্বাচনের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ তদন্তের দাবি তোলা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি আল্লাহ আমাদের কবুল করেন, তবে এই অনিয়মগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে।
অধিনায়ক হক জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দেশের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেট কূটনীতির অভাবই বাংলাদেশকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রধান কারণ। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমর্থন ছাড়া কোনো দল সফলভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
হক আরও জানিয়ে দেন, বর্তমানে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারীর তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ২৪ জানুয়ারি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে আইসিসি (আইসিসি) এর কাছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করে। তবে আইসিসি এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, ফলে বাংলাদেশকে ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়া হয়। হক এই সিদ্ধান্তকে দেশের ক্রীড়া নীতির একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
অধিনায়ক হক বলেন, তিনি এবং তার দল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার দাবি করে। “আমার দেশ আগে, সেটা আমার অধিকার,” তিনি বলেন, যা তার জাতীয় স্বার্থের প্রতি অটল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনের পর যদি কোনো অপরাধমূলক কাজ প্রকাশ পায়, তবে তা আইনি কাঠামোর মধ্যে শাস্তি পাবে।
এই মন্তব্যের পর, মিরপুর-৬ এলাকার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া দলগুলোকে হকের বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নিতে আহ্বান জানানো হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের গঠন প্রক্রিয়ার দুর্নীতি দূর হবে। শেষ পর্যন্ত, হক দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে জোর দেন।



