২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সভাপতি আবদুর রহমান খান একটি সভা পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি অবৈধ ঘোষণার ফলে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়ার মূল কারণ হিসেবে তা উল্লেখ করেন।
সভাটি ঢাকা শহরের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং কাস্টমস, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে কাস্টমস সিস্টেমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আবদুর রহমান খান জোর দিয়ে বলেন যে, আমদানি পণ্যের ভুল ঘোষণার ফলে শুল্ক ও করের হিসাবের ভুল, দস্তাবেজের পুনরায় যাচাই এবং পণ্যের রিলিজে বিলম্বের মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসব জটিলতা শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দেয়।
বন্ড অটোমেশনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, স্বয়ংক্রিয় বন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে ঘোষণার সঠিকতা বাড়ানো এবং শুল্ক সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যে কিছু পোর্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য হল সমস্ত আর্থিক তথ্য অনলাইন ভিত্তিতে প্রকাশ করা, যাতে করদাতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি রিয়েল-টাইমে তথ্য যাচাই করতে পারে। তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়লে অবৈধ ঘোষণার সুযোগ কমে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি স্বীকার করেন যে, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ কর আদায় করা এবং সব করদাতাকে সন্তুষ্ট করা দুটোই বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। তবে ন্যায়সঙ্গত ও সমান সেবা প্রদান করা নীতি অবিচল থাকবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বর্তমানে সব সেবা একসাথে ডিজিটাল করে, গ্রাহককে কোনো বৈষম্য না করে সেবা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। এই উদ্যোগের মধ্যে ই-ফাইলিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত।
বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে, আবদুর রহমান খান উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে সকল আমদানি পণ্যের শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা কেবলমাত্র স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত পণ্যগুলোকে বাদ দিয়ে করা হবে।
স্থানীয় উৎপাদনকে রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের উপর শুল্ক বজায় রাখা হবে, যাতে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানি খরচ কমে, উৎপাদন খাতের ইনপুট খরচ হ্রাস পাবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম কমে যাবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ কাস্টমস প্রক্রিয়া সরবরাহ শৃঙ্খলাকে দ্রুততর করবে।
ডিজিটাল রূপান্তর এবং অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
সারসংক্ষেপে, অবৈধ ঘোষণার ফলে সৃষ্ট কাস্টমস জটিলতা দূর করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং শুল্ক নীতির পুনর্বিবেচনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে।



