ফ্রান্সের উত্তরের ক্যালাইস শহরের নিকটবর্তী এলাকায় দুইজন ব্রিটিশ নাগরিককে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা ডানপন্থী প্রতিবাদে অংশগ্রহণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩৫ এবং ৫০ বছর বয়সের এই দুজনকে রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় পুলিশ একটি পরিচয় যাচাইয়ের সময় আটক করেছে। গ্রেফতারের সময় তারা সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করছিলেন, যা পরবর্তীতে তদন্তের মূল সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ফরাসি প্রসিকিউটর সেসিল গ্রেসিয়ে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন দুজনকে “ঘৃণার উস্কানি” এবং “হিংসাত্মক কাজের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণ” এর অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো ফরাসি অপরাধবিধির ধারা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছিল যে যুক্তরাজ্য থেকে আসা যেকোনো ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যান্টি-মাইগ্রেশন প্রতিবাদে অংশ নিতে চায়, তবে তাকে অবিলম্বে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই নীতি বিশেষভাবে “অপারেশন ওভারলর্ড” নামে পরিচিত প্রতিবাদকে লক্ষ্য করে গৃহীত হয়েছিল, যা ফরাসি সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
ইউকে সামাজিক মাধ্যমে কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সের উত্তরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই আহ্বানগুলো মূলত অল্প আকারের নৌকা ব্যবহার করে চ্যানেল পারাপার করে আসা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে ফরাসি আইন অনুযায়ী, এমন কোনো প্রতিবাদ যদি হিংসা বা ঘৃণামূলক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা অবৈধ বলে গণ্য হয়।
“অপারেশন ওভারলর্ড” নামের এই প্রতিবাদটি ফরাসি কর্তৃপক্ষের দ্বারা পূর্বেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরিকল্পিত রুটটি ক্যালাইসের কাছাকাছি অবস্থিত ছোট নৌকা টার্মিনালকে কেন্দ্র করে ছিল, যেখানে শরণার্থীরা চ্যানেল পারাপার করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। এই স্থানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ-আইনী অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পাস-দে-কালেইস প্রিফেকচার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুজনকে পরিচয় যাচাইয়ের সময় ভিডিও পোস্ট করার সময় ধরা পড়ে। ভিডিওতে তারা বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে এবং নিজেদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়া দেখা গিয়েছে। এই বিষয়টি তদন্তকারীদের দৃষ্টিতে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় যে তারা গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হতে পারে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফরাসি বিচারিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রথম শুনানি সাধারণত গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মামলার ফাইল প্রস্তুত করে আদালতে উপস্থাপন করার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনা ফ্রান্সের অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফরাসি সরকার দীর্ঘদিন থেকে চ্যানেল পারাপারকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে, এবং এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে কঠোরভাবে মোকাবিলা করছে।
অধিক তথ্যের জন্য ফরাসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় আদালত থেকে আরও আপডেটের অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী ধাপের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



