নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা, কোতালেবাগে সোমবার বিকেল প্রায় তিনটায় আরিফ মাহমুদকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আরিফ, যিনি আওয়ামী লীগ দলের সক্রিয় সদস্য, গত মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন।
ফতুল্লা মডেল থানার তদন্তকারী আনোয়ার হোসেন জানান, আরিফের মা, আমেনা বেগম, একই দিন সকাল আটটায় বয়সজনিত অসুস্থতার ফলে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার জানাজা ও দাফনের জন্য উপস্থিত হতে পারার জন্য প্যারোলে আবেদন করে।
আবেদনটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পৌঁছে, যিনি চার ঘণ্টার প্যারোলে অনুমতি প্রদান করেন। এই সময়সীমা আরিফকে মায়ের শেষিকায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। প্যারোলে শর্তে মুক্তি পেয়ে তিনি মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত হন।
দুপুরের পর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরিফকে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত প্রক্রিয়াটি স্থানীয় পুলিশ ও কারাগার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।
আফসোসের বিষয়, আরিফের গ্রেপ্তারকৃত অপরাধটি এখনও চলমান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত, যার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অনুসন্ধানকারী আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, প্যারোলে শর্তে মুক্তি দেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত, যা মৃতের শেষিকায় পরিবারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্যারোলে শর্তে মুক্তি পেলে অপরাধীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় কারাগারে ফেরত দিতে হবে।
দিল্লি ম্যাজিস্ট্রেটের এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে প্যারোলে শর্তের আওতায় অনুমোদিত, যেখানে অপরাধীর পরিবারিক জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারা যায়। তবে শর্ত লঙ্ঘন হলে আইনগত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকে।
কারাগার কর্তৃপক্ষের মতে, আরিফকে প্যারোলে শর্তে মুক্তি দেওয়ার পর তার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি পুনরায় জেলখানায় পৌঁছানোর পর নিয়মিত রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বৈধ প্যারোলে শর্তের আওতায় মুক্তি পেলে, অপরাধীর পুনরায় অপরাধের ঝুঁকি কমে না; তাই আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করবে।
এই মামলায় আরিফের ভবিষ্যৎ বিচার প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট আদালত দ্রুত শুনানি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার মূল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সমীক্ষা চলমান।
সামগ্রিকভাবে, প্যারোলে শর্তে মুক্তি পেয়ে আরিফের মায়ের শেষিকায় অংশগ্রহণ করা একটি মানবিক দিক থেকে স্বীকৃত পদক্ষেপ, তবে তার মূল অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।



