সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশে অমর একুশে বইমেলায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ হ্রাস করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া বইমেলায় প্রকাশক ও বিক্রেতাদের জন্য কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবের সম্মিলিত বৈঠকে এই পদক্ষেপ অনুমোদিত হয়।
বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং অংশগ্রহণের পরিসর বাড়াতে ভাড়া হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টল ভাড়া হ্রাসের মাধ্যমে ছোট আকারের প্রকাশক ও নতুন লেখকরা সহজে অংশ নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক। তিনজনের সম্মিলিত মতামত ও প্রকাশকদের অনুরোধের ভিত্তিতে ভাড়া হ্রাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
স্টল ভাড়া হ্রাসের হার ২৫ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের ভাড়া থেকে এক চতুর্থাংশ কম। এই হ্রাসের ফলে প্রকাশকরা একই আর্থিক ব্যয়ে বেশি স্টল নিতে পারবে অথবা একই স্টলে অতিরিক্ত সেবা যোগ করতে পারবে।
বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হবে এবং পুরো দেশজুড়ে বহু শহরে সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমী এই বছরের বইমেলা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছে।
বাংলা একাডেমীর ভূমিকা শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক সমন্বয় নয়, বরং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলা। ভাড়া হ্রাসের মাধ্যমে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, ফলে বইমেলায় বিক্রয় সম্ভাবনা ও পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্টল ভাড়া হ্রাসের ফলে প্রকাশকদের আর্থিক লোড কমে যাবে এবং তারা নতুন শিরোনাম ও প্রচারমূলক কার্যক্রমে বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। এই প্রবণতা বইমেলার সামগ্রিক বিক্রয় আয়কে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, বইমেলা আয়োজকদের জন্য ভাড়া হ্রাসের ফলে সরাসরি আয় কমতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় আশা করে যে অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক বিক্রয় ও কর আয় বাড়বে, যা হ্রাসকৃত ভাড়ার ক্ষতিপূরণ করবে।
প্রকাশকদের অংশগ্রহণ বাড়লে বইমেলায় দর্শকসংখ্যা ও মিডিয়া কভারেজও বৃদ্ধি পাবে। বৃহত্তর দর্শকসংখ্যা স্পন্সরশিপ ও বিজ্ঞাপন আয়ের সম্ভাবনা বাড়াবে, ফলে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, যদি ভাড়া হ্রাসের পরেও প্রকাশকদের সংখ্যা প্রত্যাশিত মাত্রায় না পৌঁছে, তবে আয়োজকদের অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে হবে। তাই মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমী বিক্রয় ও অংশগ্রহণের রিয়েল-টাইম ডেটা পর্যবেক্ষণ করে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, স্টল ভাড়া হ্রাসের ধারাবাহিকতা প্রকাশক ও পাঠক উভয়েরই সন্তোষজনক ফল দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নীতি সফল হলে অন্যান্য সাংস্কৃতিক ইভেন্টেও অনুরূপ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অমর একুশে বইমেলায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমিয়ে প্রকাশকদের আর্থিক বোঝা হ্রাস করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে। মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে বইমেলাকে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের সমন্বিত মঞ্চে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর।



