ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ খেলোয়াড়ের শক্তিশালী দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দল এই তালিকায় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, বহুমুখী অল-রাউন্ডার এবং দ্রুতগতির বোলারদের সমন্বয় দেখাচ্ছে। দলটি গ্রুপ সি-তে ইংল্যান্ড, নেপাল, ইতালি এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সামগ্রিকভাবে ব্যাটিং লাইন‑আপে শিমরন হেটমায়ার, জনসন চার্লস এবং রোস্টন চেজের মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রোমারিও শেফার্ডের মতো শক্তিশালী হিটার রয়েছে। অল‑রাউন্ডারদের মধ্যে শাই হোপ, জেসন হোল্ডার এবং শারফেন রদারফোর্ডের নাম উল্লেখযোগ্য, যারা ব্যাট ও বল দুটোতেই প্রভাব ফেলতে সক্ষম। দ্রুত বোলারদের পোর্টফোলিওতে গুডাকেশ মতি, রোভম্যান পাওয়েল এবং জেডেন সিলসের মতো নাম অন্তর্ভুক্ত, যা পেসিং দিক থেকে দলকে সমৃদ্ধ করে।
শাই হোপ দলকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন; তিনি সাম্প্রতিক আফগানিস্তান বিপরীতে টি২০ সিরিজে অংশ নিতে পারেননি, তবে এবার আবার দলে ফিরে আসছেন। হোপের প্রত্যাবর্তন দলকে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রদান করবে এবং টুর্নামেন্টে তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোস্টন চেজ, জেসন হোল্ডার, শারফেন রদারফোর্ড এবং রোমারিও শেফার্ডও আবার দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই খেলোয়াড়রা পূর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছে এবং দলকে ব্যাটিং‑বোলিং উভয় দিকেই ভারসাম্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। তাদের উপস্থিতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বহুমুখী কৌশলকে শক্তিশালী করবে।
সাম্প্রতিক তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আফগানিস্তানের হাতে ২-১ পরাজয় স্বীকার করেছে। সিরিজের ফলাফল দলকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও, নতুন দলে ফিরে আসা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ইতিবাচক দিক নির্দেশ করেছে। এই অভিজ্ঞতা টুর্নামেন্টের আগে শেষ টিউন‑আপ ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
টুর্নামেন্টের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সঙ্গে নির্ধারিত হয়েছে। এই ম্যাচটি দলকে শেষ মুহূর্তে ফর্ম যাচাই এবং কৌশল সমন্বয় করার সুযোগ দেবে। দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া টিমের পেসারদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয় দলে দ্রুত গতি সম্পন্ন বোলারদের উপস্থিতি রয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইংল্যান্ড, নেপাল, ইতালি এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। গ্রুপের প্রতিটি দলই ভিন্ন ধরণের হুমকি উপস্থাপন করে; ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং, নেপালের উত্সাহী তরুণ খেলোয়াড়, ইতালির অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স এবং স্কটল্যান্ডের সুনির্দিষ্ট ফিল্ডিং—all এইগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করবে।
দলটির প্রথম ম্যাচটি ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এই সূচনামূলক খেলাটি টুর্নামেন্টের টোন নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ফায়ারপাওয়ার এবং বোলিং ডিপথ পরীক্ষা করা হবে।
দল গঠনের পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: শাই হোপ (ক্যাপ্টেন), শিমরন হেটমায়ার, জনসন চার্লস, রোস্টন চেজ, ম্যাথিউ ফোর্ড, জেসন হোল্ডার, একেল হোসেইন, শামার জোসেফ, ব্র্যান্ডন কিং, গুডাকেশ মতি, রোভম্যান পাওয়েল, শারফেন রদারফোর্ড, কোয়েন্টিন সাম্পসন, জেডেন সিলস, রোমারিও শেফার্ড। এই সংযোজনগুলো দলকে ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত শক্তি প্রদান করবে।
দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন নতুন দলে প্রস্তুত হয়ে বিশ্বকাপের পথে অগ্রসর হচ্ছে। দলটি টুর্নামেন্টে পুনরায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে, গ্রুপের প্রতিটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশলগতভাবে খেলতে চায়। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ এবং গ্রুপের সূচি দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



