27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঝিনাইদহে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমানের দুর্নীতি বিরোধী ঘোষণা

ঝিনাইদহে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমানের দুর্নীতি বিরোধী ঘোষণা

ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী হাইস্কুলে সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার প্রধান মঞ্চে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান দুর্নীতিবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিবাজদের হাতে ব্যান্ডেজ দিয়ে হাত মুঠ করে দেওয়া হবে, যাতে তারা আর কোনো অবৈধ লেনদেন করতে না পারে। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

জনসভায় উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে শফিকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে এসেছি সেইসব মানুষের স্মরণে যারা অতীতের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের জন্য প্রার্থনা করা ছাড়াও, আমি আপনাদেরকে প্রশ্ন করছি—নতুন ফ্যাসিবাদে আমরা কি ফিরে যেতে চাই?” তিনি জনগণকে একত্রিত হয়ে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।

দুর্নীতি বন্ধের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলতে তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চেহারা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। শফিকুর রহমানের মতে, “যারা দুর্নীতি করে, তাদের গলা থেকে হাত দিয়ে জনগণের হারিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনা হবে।” এই প্রতিশ্রুতি তিনি ভোটারদের কাছে সরাসরি উপস্থাপন করেন, যাতে প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।

জনসভার সময় শফিকুর রহমান চারজন স্থানীয় প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন, যা ভোট চাওয়ার প্রতীকী কাজ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। তিনি ভোটের সময় এই প্রতীক ব্যবহার করে সকলকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য অনুরোধ করেন। এই মুহূর্তে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা সমর্থন জানিয়ে বক্তৃতা দেন।

দলীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং যশোর‑কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন বিশেষ অতিথি হিসেবে তার মতামত প্রকাশ করেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমির এবং ঝিনাইদহ‑২ আসনের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর। এছাড়া ঝিনাইদহ‑৩ আসনের প্রার্থী মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ‑৪ আসনের আবু তালিব এবং ঝিনাইদহ‑১ আসনের প্রার্থী এ.এস.এম. মতিউর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।

জনসভার আয়োজনের পর থেকে জেলা জুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা‑কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হতে থাকে। বিকেলের শেষের দিকে জনসভার মাঠে উপস্থিতি বাড়তে থাকে, এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়কপথে ঝিনাইদহে পৌঁছান। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশের উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়।

শফিকুর রহমানের বক্তৃতায় তিনি দলের কর্মীদের ‘পেট ভরার রাজনীতি’ না করার আহ্বান জানান, যা চার ঘণ্টা আগে তিনি একই রকম বার্তা দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ভোট জয় করা নয়, বরং দেশের উন্নয়নে বাস্তবিক অবদান রাখা।” এই নীতি অনুসারে তিনি দলের সদস্যদের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

জনসভার শেষে উপস্থিতির সংখ্যা বিশাল ছিল, এবং অংশগ্রহণকারীরা শফিকুর রহমানের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “দুর্নীতি বন্ধের জন্য শুধু শাসন নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।” এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি ভোটের সময় সকলের সমর্থন চেয়ে শেষ করেন।

এই জনসভা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শফিকুর রহমানের দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি এবং ভোটের জন্য আহ্বান ভবিষ্যতে পার্টির ভোটাভুটি ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত পার্টি নেতারা এবং সমর্থকরা এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী নির্বাচনী পর্যায়ে এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments