সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতি আয়োজিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে, বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার বলে জোর দেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, যেখানে হোসেনের মন্তব্যের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনের শাসন না থাকলে ন্যায়বিচার সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে।
সাতকানিয়ার শতবর্ষী আদালত ভবনের অবকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের অংশ। হোসেন জানান, ভবনটিকে আধুনিক বহুতল কাঠামোতে রূপান্তর করা হবে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হতে পারে। এই রূপান্তরের জন্য প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সঙ্গে পরামর্শ চালু করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি, আদালতের প্রযুক্তিগত সুবিধা, যেমন ডিজিটাল রেকর্ডিং সিস্টেম ও আধুনিক কোর্টরুমের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। হোসেন উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং ন্যায়বিচার দ্রুত পৌঁছে যাবে।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সরকার এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবে, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যায়বিচারের সেবা সমানভাবে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার আনার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে হোসেন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের পর দেশের মানুষ ভোটাধিকার ব্যবহার করার সুযোগ পাবে এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
হোসেন আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। তিনি জনগণকে ভালোর আশা রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের বক্তব্যের পর, আদালত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত বাজেট ও সময়সীমা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাজের সূচনা শীঘ্রই হবে এবং সম্পন্ন হলে পুরো অঞ্চলকে আধুনিক ন্যায়বিচার সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
সাতকানিয়া আদালতের এই রূপান্তর প্রকল্পকে বাংলাদেশ সরকারের বৃহত্তর বিচার সংস্কার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আইনশাসনকে শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচার সেবা সহজলভ্য করতে নানা ধরণের নীতি ও প্রকল্প চালু করেছে।
সারসংক্ষেপে, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিচারব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা দুইটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



