অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্রের জন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা সুসান্নে ব্র্যান্ডস্টাটার তার নতুন ডকুমেন্টারি ‘Hungry’কে ২ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারড্যামের ৫৫তম সংস্করণের হারবার প্রোগ্রামে বিশ্বপ্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করবেন। চলচ্চিত্রটি মানবজাতির ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যেখানে এক অদ্ভুত সত্তা মানবের অনুপস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং বিলুপ্তির কারণগুলো উন্মোচন করার চেষ্টা করে।
ট্রেইলারে দেখা যায়, সত্তাটি বিজ্ঞানী ও পরিবেশ কর্মীদের সঙ্গে করা অডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে, যা ‘বিলুপ্তি ঘটনার’ আগে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই রেকর্ডিংগুলোতে গ্রহের ধ্বংস এবং মানবের অস্তিত্বের হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে মুখোমুখি কথোপকথনের বদলে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনা যায়, যা দর্শকের কল্পনাশক্তিকে উদ্দীপিত করে।
‘Hungry’ প্রথম নজরে একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো মনে হতে পারে, তবে বাস্তবে এটি একটি ডকুমেন্টারি যা বৈজ্ঞানিক তথ্য, পরিবেশগত বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি একত্রিত করে। চলচ্চিত্রের নির্মাণে মানববিহীন প্রাকৃতিক দৃশ্যের চিত্রায়ণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার অনুভূতি জাগায়। এই ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি দর্শকদেরকে পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল রটারড্যামের ওয়েবসাইটে এই কাজকে ‘অত্যন্ত জরুরি ও মনোমুগ্ধকর ডকুমেন্টারি কবিতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফেস্টিভালের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলচ্চিত্রটি পরিবেশগত সমস্যার বাইরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রবেশ করে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে অদৃশ্য সংযোগগুলোকে প্রকাশ করে।
চলচ্চিত্রের মূল থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তার হ্রাস, শ্রমবাজারের অবনতির ঝুঁকি, গণতান্ত্রিক শাসনের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক গণতন্ত্রের পতন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িত এবং একটির অবনতি অন্যটিকেও প্রভাবিত করে। ‘Hungry’ এই আন্তঃসংযোগগুলোকে দৃশ্যমান করে, যাতে দর্শকরা সমস্যার মূল কারণগুলোকে সহজে উপলব্ধি করতে পারে।
ব্র্যান্ডস্টাটার পূর্বে ‘This Land Is My Land’ নামে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন, যা একইভাবে পরিবেশগত সচেতনতা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে। ‘Hungry’ তে তিনি অডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিজ্ঞানী ও কর্মীদের কণ্ঠকে কেন্দ্র করে একটি বর্ণনামূলক কাঠামো গড়ে তুলেছেন, যা প্রচলিত টক‑হেড ফরম্যাটের তুলনায় অধিক স্বতঃস্ফূর্ততা প্রদান করে।
চলচ্চিত্রের শুটিং প্রক্রিয়ায় মানববিহীন প্রাকৃতিক পরিবেশের শূন্যতা ও সৌন্দর্যকে জোর দেওয়া হয়েছে। শূন্য শহরের রাস্তা, পরিত্যক্ত কৃষি ক্ষেত্র এবং বন্যপ্রাণীর নিঃশব্দ চলাচলকে ক্যামেরা ধরা হয়েছে, যা মানব ক্রিয়াকলাপের অনুপস্থিতিতে প্রকৃতির পুনরুদ্ধারকে ইঙ্গিত করে। এই দৃশ্যগুলো দর্শকের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি আশার অনুভূতি জাগায়।
‘Hungry’ এর প্রকাশনা রটারড্যামের হারবার প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে হওয়ায়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও শিল্পকর্মের প্রেমিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফেস্টিভালের অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকটের উপর আলোকপাতকে প্রশংসা করেছেন এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
ফেস্টিভালের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন, এই ডকুমেন্টারিটি শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যার চিত্রায়ন নয়, বরং মানব সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে উন্মোচন করে। তারা আশা করেন যে, চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনের পথে পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।
‘Hungry’ এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডস্টাটার মানবজাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে তিনি দর্শকদেরকে বর্তমানের অগ্রাহ্য সমস্যাগুলোকে স্বীকার করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত একটি শিল্পকর্মের মতো, যা সৌন্দর্য ও জরুরিতার মিশ্রণ ঘটিয়ে দর্শকের হৃদয় ও মস্তিষ্ক উভয়কেই স্পর্শ করে।
এই ডকুমেন্টারির বিশ্বপ্রদর্শনী রটারড্যামের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নতুন আলোচনার সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়বস্তুর ওপর আরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি হয়ে পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে আলোচনার মঞ্চে আসবে।



