28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নির্বাচনের আগে জামাতের নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি, পার্টি ইসিসি-কে দাবি করে...

জাতীয় নির্বাচনের আগে জামাতের নারী কর্মীদের ওপর হয়রানি, পার্টি ইসিসি-কে দাবি করে পদক্ষেপ

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে জামাত‑ই‑ইসলামি দাবি করেছে যে তাদের নারী কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্টভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। দলটির সহকারী সচিব জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগ প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ বিষয়ে ইসিসি প্রধানের সঙ্গে এগ্রাগন, ঢাকা ইলেকশন কমিশন সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন।

বৈঠকের সময় জুবায়ের উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, নারী কর্মীরা শারীরিক ও মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে তাদের মুখোশ খুলে ফেলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং সামাজিক মর্যাদা হ্রাসের মতো ঘটনা ঘটছে।

এই ধরনের ঘটনা বিশেষত ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঘন ঘন ঘটছে বলে দলটি জানিয়েছে। তবে একই রকম অভিযোগ অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়ও উঠে এসেছে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। জুবায়ের মতে, এই ধরনের আচরণ কেবল একাধিকবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে না, বরং পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জামাতের নেতারা ইসিসি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তুলে ধরেছেন, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

দলটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ঘটনাস্থলে অভিযোগ দাখিলের পরেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জুবায়ের মতে, দ্রুত এবং কার্যকরী প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় নারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করছে।

এছাড়া, জামাতের প্রতিনিধিরা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে এবং তাদের দায়িত্বের পরিধি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, সকল প্রার্থী ও কর্মীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান করবে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযোগের উত্থান রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দলটির দাবি অনুযায়ী, যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে নারীদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

ইসিসি-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে জামাতের দাবি ও সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। দলটি উল্লেখ করেছে যে, তারা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

এই ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে। তারা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সামগ্রিকভাবে, জামাতের নারী কর্মীদের ওপর হয়রানির অভিযোগ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলবে।

এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, সকল রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে সমানভাবে ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটার ও প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments