রবিবার রাতের দিকে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছাকাছি মেডিটেরানিয়ান সাগরে একটি অনিয়মিত যাত্রা করা নৌকা ডুবে প্রায় পঞ্চাশ অভিবাসীর প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। নৌকাটি ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তিউনিসিয়া থেকে বেরিয়ে ছিল এবং ডুবে যাওয়ার পর তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকর্মী সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়। মাল্টা সশস্ত্র বাহিনীর জানানো মতে, একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তি উদ্ধার করে মাল্টা পৌঁছে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
ডুবে যাওয়া নৌকাটি তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত, যেখানে বহু বছর ধরে অভিবাসী নৌকাগুলি ঝড়ের তীব্রতা ও নৌকাপ্রবাহের কারণে বিপদের মুখে পড়ে। এই ঘটনার আগে, একই সপ্তাহে অ্যালার্ম ফোন এক্স প্ল্যাটফর্মে জানানো হয়েছিল যে, তিউনিসিয়া থেকে তিনটি নৌকায় প্রায় ১৫০ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। তবে আজকের ডুবে যাওয়া নৌকাটি কি সেই নিখোঁজ নৌকাগুলোর একটি কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
ফ্রাইডে, তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজ একক পুরুষকে উদ্ধার করে, যাকে পরে মাল্টায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এই ঘটনার পর, মাল্টা সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়েছে, “আমরা দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছি এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেছি।” এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অভিবাসী সহায়তা সংস্থা অ্যালার্ম ফোন এক্স প্ল্যাটফর্মও একই সময়ে জানিয়েছে যে, কর্তৃপক্ষ একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে মাল্টায় উদ্ধার করেছে। সংস্থার মতে, এই বেঁচে থাকা ব্যক্তি ডুবে যাওয়া নৌকায় সরে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদের দ্বারা উদ্ধার করা হয় এবং বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। সংস্থা অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছে, গত সপ্তাহে তিউনিসিয়া থেকে যাত্রা করা তিনটি নৌকায় মোট ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছে, যা অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের সমুদ্রপথে নিরাপদ যাত্রার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “মেডিটেরানিয়ান সাগরে নিয়মিতভাবে ঘটমান এই ধরনের দুর্ঘটনা ইউরোপের অভিবাসন নীতি ও তিউনিসিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।” তিনি আরও বলেন, তিউনিসিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো উচিত।
ইউনাইটেড নেশনসের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) ইতিমধ্যে তিউনিসিয়া ও মাল্টা সরকারকে মানবিক সহায়তা বাড়াতে এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ যাত্রার জন্য জরুরি পরিকল্পনা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থার একটি মুখপাত্রের মতে, “অবৈধ অভিবাসন রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এমন দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে।” তিনি তিউনিসিয়ার সরকারকে সমুদ্র সীমানা পর্যবেক্ষণ বাড়াতে এবং শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিকল্প নিরাপদ রুট তৈরি করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিউনিসিয়া থেকে ইউরোপে অভিবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ঘটছে। এই প্রবণতা অনুসারে, তিউনিসিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসকিউ জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।
মাল্টা সরকার ইতিমধ্যে ডুবে যাওয়া নৌকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র রক্ষা সংস্থার সহায়তা চেয়েছে। তিউনিসিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রীও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখনো অনেক মানুষকে হারিয়েছি, এবং ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা রোধের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিউনিসিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নতুন চুক্তি আলোচনার সূচনা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, মেডিটেরানিয়ান সাগরে নৌকা ডুবে প্রায় পঞ্চাশ অভিবাসীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ পেয়েছে। তিউনিসিয়া, মাল্টা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালু হয়েছে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে, যা সমাধানের জন্য বহুমুখী নীতি ও কার্যকরী পরিকল্পনা প্রয়োজন।



