২৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল প্রায় সাতটায় শ্যামপুরের পশ্চিম জুরাইন এলাকায় একটি দ্রুতগামী ট্রাক একটি মোটরসাইকেলকে আঘাত করে। আঘাতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়ে। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় পুলিশকে তৎক্ষণাৎ জানানো হয়।
মৃত শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ না করা হলেও জানা যায়, তার পরিবার পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় বসবাস করে এবং তিনি ঢাকার পূর্ব রামপুরা এলাকায় থাকতেন। তার পিতার নাম গাজী হাফিজুর রহমান।
ঘটনাস্থল শ্যামপুরের পশ্চিম জুরাইন, যা প্রধান সড়কের কাছাকাছি অবস্থিত, সেখানে ট্রাকের গতি উচ্চ ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। ট্রাকটি পণ্যভিত্তিক ছিল এবং দ্রুত চলাচল করছিল।
মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সামনে থেকে ধাক্কা খায়, ফলে চালক ও যাত্রী উভয়ই গুরুতর আঘাত পায়। শিক্ষার্থী তৎক্ষণাৎ অচেতন অবস্থায় রইল এবং কোনো সময়ে রেসকিউ টিমের হস্তক্ষেপের সুযোগ না পেয়ে মৃত্যুবরণ করে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, মৃতদেহ ও পণ্যভরা ট্রাকটি সংগ্রহ করে।现场ে কোনো চালক বা সহকারী পাওয়া যায়নি, ফলে তাদের সনাক্তকরণ এখনো বাকি।
শহরের শ্যামপুর থানা উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আজিজুল হক সন্ধ্যায় স্ট্রিমকে জানিয়ে বলেন, “ঘটনাস্থলে আমরা মৃতদেহ ও পণ্য ভর্তি ট্রাকটি পেয়েছি, চালক বা হেলপার কোনোভাবে পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, মৃতদেহের উপর ময়নাতদন্ত করা হয় এবং ফলাফল পরিবারকে বিকালের দিকে জানানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে ট্রাকের ধাক্কা এবং উচ্চ গতির কারণে ঘটিত আঘাতের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃতদেহের পরিবারকে দেহ হস্তান্তর করার পর, পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি ছিল এবং সবাই শোক প্রকাশ করে।
দাফন শেষে, পরিবারের সদস্যরা শ্যামপুর থানায় গিয়ে ঘটনাটির জন্য আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, দায়ী চালক ও সহকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
থানার উপ-পরিদর্শক জানান, “পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মামলা দায়ের করবেন। আমরা যথাসাধ্য তদন্ত চালিয়ে যাব এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে টেনে আনব।” তিনি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেন।
পুলিশ বর্তমানে ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মালিকের তথ্য অনুসন্ধান করছে। ট্রাকের মালিকানা ও চালকের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য রোড ট্রাফিক অফিস ও রেজিস্ট্রেশন ডেটাবেসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, ট্রাকের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাডার গেজ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডে ট্রাকের গতি ও পথচলা স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ট্রাকের গতি সীমা অতিক্রম করেছিল এবং সঠিকভাবে ব্রেক ব্যবহার করা হয়নি। এই বিষয়গুলো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রাকের চালক ও সহকারীকে দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য দায়ী করা হতে পারে এবং ট্রাফিক আইনের অধীনে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, পণ্যবাহী ট্রাকের মালিকের দায়িত্বও তদন্তের আওতায় থাকবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গতি সীমা মেনে চলা এবং সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধে ট্রাফিক নিয়মের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।



