দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক হ্যান্ডব্যাগ বিডি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরশারাইতে অবস্থিত বেপজা ইকোনমিক জোনে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি দেশের রপ্তানি-ভিত্তিক উৎপাদন খাতের জন্য নতুন বড় মাপের ব্যাগ ও গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের ভিত্তি তৈরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি হ্যান্ডব্যাগ, ব্যাকপ্যাক এবং লাগেজসহ উচ্চমানের পোশাক উৎপাদন করবে। প্রকল্পের মোট এলাকা ৫৭,৬০০ বর্গমিটার, যা বৃহৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিশ্চিত করবে। বেপজা কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগটি দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। এটি স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটি ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। বেপজার বিনিয়োগ প্রচার কার্যনির্বাহী পরিচালক মোঃ তানভীর হোসেন এবং পার্ক হ্যান্ডব্যাগের চেয়ারম্যান বোমজুন পার্ক উভয়েই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
বেপজা ও পার্ক হ্যান্ডব্যাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারিত হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ৫৭,৬০০ বর্গমিটারের জমিতে আধুনিক উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানাটি হ্যান্ডব্যাগ, ব্যাকপ্যাক এবং লাগেজের পাশাপাশি নিট ও বুনন পোশাকের বিস্তৃত পরিসর উৎপাদন করবে। বিনিয়োগের মূলধন দেশীয় সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারীদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উৎপাদন লাইনটি হ্যান্ডব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, লাগেজের পাশাপাশি পোলো শার্ট, টি-শার্ট, প্যাডেড ও ডাউন জ্যাকেট, প্যান্ট, স্পোর্টসওয়্যার এবং অন্তর্বাসসহ বিভিন্ন নিট ও বুনন গার্মেন্টস অন্তর্ভুক্ত করবে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য সমাহার আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন বলে বিবেচিত। পার্ক হ্যান্ডব্যাগের লক্ষ্য হল গুণগত মান ও ডিজাইনে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করে বিশ্ববাজারে স্থান দখল করা। উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণ চালু হলে বছরে লক্ষ লক্ষ ইউনিট পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে প্রায় ১০,৯৬০ জন বাংলাদেশী কর্মীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই সংখ্যায় সরাসরি উৎপাদন কর্মী, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কর্মী এবং সহায়ক সেবা কর্মী অন্তর্ভুক্ত। বেপজা উল্লেখ করেছে, এই কর্মসংস্থান সুযোগটি দেশের বেকারত্ব হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, স্থানীয় শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উৎপাদিত পণ্যগুলি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার প্রধান বাজারে রপ্তানি করা হবে। এই বহুমুখী রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোতে উচ্চ মানের ব্যাগ ও গার্মেন্টসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। বেপজা ও পার্ক হ্যান্ডব্যাগের সমন্বিত কৌশল অনুযায়ী, গুণগত মান ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্থাপন করা হবে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেলে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেপজা ইকোনমিক জোনে এই বৃহৎ বিনিয়োগ দেশের সরাসরি বিদেশি মূলধন প্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে। স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে কাঁচামাল ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চাহিদা বাড়বে, যা সমগ্র শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, উচ্চমানের গার্মেন্টস ও ব্যাগ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান উন্নত হবে। এই প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
বিপিএজেডে এই উদ্যোগটি দেশের রপ্তানি-কেন্দ্রিক শিল্প নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে, প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করতে দক্ষ শ্রমশক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সময়মতো অনুমোদন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে, এই কারখানা স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়াবে। সংক্ষেপে, ৮০ মিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।



