দক্ষিণী হস্তী সীলের শাবকরা ২০২৪ সালে ক্রোজেট দ্বীপপুঞ্জে আনা এক মারাত্মক পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেইনের প্রথম শিকার হয়। একই সময়ে, কিছু পেঙ্গুইন শাবক ইতিমধ্যে ফ্লু টিকায় সুরক্ষিত ছিল, যা তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিল।
ফ্লু ভাইরাসের প্রথম আক্রমণ অক্টোবর মাসে ঘটার আগে, রোগবিজ্ঞানী থিয়েরি বুলিনিয়ের এবং তার দল পসেশন দ্বীপে যুব রাজা পেঙ্গুইনের উপর একটি ছোট টিকাদান পরীক্ষা শেষ করতে প্রস্তুত ছিল। টিকাটি হ্যাঁ‑৫১ (H5N1) ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি, যা ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়ে বহু পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীকে ধ্বংস করেছিল।
২০২২ সালের H5N1 বিস্ফোরণ, যার ফলে গর্জনশীল ঈগল ও লাল শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতি মারা গিয়েছিল, টিকাদান প্রকল্পের সূচনা করার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, যদি উত্তর রকহপার পেঙ্গুইন বা আমস্টারডাম আলবাট্রসের মতো বিপন্ন পাখি গোষ্ঠীকে টিকায় সুরক্ষিত করা যায়, তবে তারা এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা পাবে।
পেঙ্গুইন টিকাদান প্রকল্পের পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক টিকাদান উদ্যোগ চলছে। অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি বন্য কোয়ালাদের জন্য ক্ল্যামিডিয়া টিকাদান অনুমোদিত হয়েছে, যা এই প্রজাতির রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, কিছু চিড়িয়াখানায় হাতির হেমোরেজিক রোগের কারণ হওয়া হের্পিসভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান সফল ফলাফল দেখাচ্ছে।
পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে গবেষকরা শ্বেত-নাক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যাটের বিরুদ্ধে ফাঙ্গাল রোগের টিকাদান চালাচ্ছেন, যা দেশের ব্যাট জনসংখ্যার ওপর বিপুল ক্ষতি করেছে। এই উদ্যোগগুলো দেখায় যে টিকাদান কেবল মানব স্বাস্থ্য নয়, বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-প্রকৃতি জরিপ সংস্থার জাতীয় বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের টনি রক বলেন, বাসস্থান হ্রাসের ফলে প্রাণীরা একে অপরের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে মিশে যায়, ফলে রোগের বিস্তার সহজ হয়। পরিবেশের পরিবর্তন এবং মানব সমাজের পরিবর্তনের সমান্তরালে রোগের গতি দ্রুততর হয়ে উঠছে, যা টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে টিকাদানকে রোগ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যায় না। টিকার কার্যকারিতা, টিকাদানের পরিসর, এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের জটিলতা সবই সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টিকাগুলি সব রোগের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না, এবং কখনও কখনও টিকাদান প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।
সংরক্ষণ সংস্থাগুলো এখন টিকাদানকে একাধিক কৌশলের মধ্যে একটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ, বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ অন্তর্ভুক্ত। টিকাদান প্রোগ্রামগুলোকে সফল করতে বিজ্ঞানী, নীতি নির্ধারক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বন্যপ্রাণীর ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য টিকাদান কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান প্রচেষ্টা দেখায় যে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে টিকাদান প্রাকৃতিক পরিবেশে রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনি কি মনে করেন, টিকাদানকে আরও বিস্তৃত করে অন্য কোন বিপন্ন প্রজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব?



