ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা উপত্যকায় শেষ অবশিষ্ট বন্দীর দেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। ২৪ বছর বয়সী মাস্টার স্যার্জ্যান্ট র্যান গভিলি, যিনি ইয়ামাম কমান্ডোর সদস্য ছিলেন, অক্টোবর ৭, ২০২৩ তারিখে সংঘটিত হামলার সময় নিহত হয়েছিলেন। তার দেহের সন্ধান ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের সঙ্গে স্থগিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে চালু ছিল।
অক্টোবরের শেষের দিকে গৃহযুদ্ধের পর স্থগিত যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়, যার শর্তে হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব বন্দীর (বেঁচে থাকা ও মৃত) তালিকা ও দেহ হস্তান্তর করতে হয়েছিল। এই সময়ে ২০ জন ইজরায়েলি বন্দী এবং ২৭ জন মৃত ইজরায়েলি ও বিদেশি বন্দীর দেহ ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। তবে র্যান গভিলির দেহের অবস্থান নির্ধারণে হামাস কয়েক সপ্তাহ ধরে অক্ষম বলে জানায়।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা সীমান্তের রাফাহ গেট পুনরায় খোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, শর্ত হল গভিলির দেহের পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হওয়া। রাফাহ গেট পুনরায় চালু হলে ইজরায়েলি ও গাজা উভয়ের জন্য মানবিক সাহায্য ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গভিলি ২৪ বছর বয়সে ইয়ামাম কমান্ডোর সদস্য হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছিলেন এবং তার দেহ গাজা উপত্যকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দেহের পুনরুদ্ধার নিয়ে পরিবারকে গভীর শোকের সঙ্গে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সঙ্গে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
হামাসের দায়িত্ব ছিল যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব বন্দীর দেহ হস্তান্তর করা, তবে র্যান গভিলির দেহের সন্ধানে তারা সময়সীমা পূরণ করতে পারেনি। এই দেরি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন তুলেছে যে, গাজা অঞ্চলে মানবিক তথ্য সংগ্রহ ও দেহের সনাক্তকরণে কী ধরনের বাধা রয়েছে।
এ পর্যন্ত গাজা থেকে মোট ৪৭টি দেহ (২০টি বেঁচে থাকা বন্দী ও ২৭টি মৃত) ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে গেছে। এই দেহগুলোকে পরিবারে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং শোকের সময়ে সমর্থন প্রদান করা হয়েছে। দেহের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
রাফাহ গেটের পুনরায় খোলার ঘোষণা গাজা-ইজরায়েল সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মিশরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়বে এবং গাজা অঞ্চলে মানবিক সাহায্যের প্রবাহ সহজতর হবে। মিশরের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে গেটের পুনরায় চালু হওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
গভিলির দেহের পুনরুদ্ধার ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার মূল শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজা পুনর্নির্মাণ, সম্পূর্ণ অবসারণ এবং হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর অস্ত্র অপসারণের লক্ষ্য রয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বিধা প্রকাশ করেছে।
একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “গভিলির দেহের পুনরুদ্ধার কেবল মানবিক দিক থেকে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি সূচক এবং গাজা পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে সহায়ক হবে।” এই মন্তব্যটি গাজা-ইজরায়েল সংঘাতের পরবর্তী ধাপের কূটনৈতিক জটিলতা তুলে ধরে।
পরবর্তী সময়ে গাজা অঞ্চলে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ পুনঃস্থাপন এবং বেসামরিক জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি চালু রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় গাজা ও ইজরায়েল উভয়ের জন্য স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকবে।
গভিলির দেহের পুনরুদ্ধার শেষ বন্দীর দেহ পাওয়া মানে গাজা থেকে সব বন্দীর দেহ ফিরে এসেছে, যা ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজা পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করতে একত্রিত হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা যায়।



