দুর্নীতি দমন কমিশন (দুর্নীতি দমন কমিশন) গত বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণ’ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এজাজকে আগামী বৃহস্পতিবার কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠানোর কথা জানালেও নির্দিষ্ট অভিযোগের বিশদ প্রকাশ করতে পারেননি। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, এজাজকে মিরপুর গাবতলী পশুর হাটের ইজারা, ই‑রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের দখলভারের দাবি, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপারমার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি কর্পোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দ এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলোতে ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর এজাজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার তথ্য প্রকাশ করেছে। তদন্তে দুজন সদস্যের একটি দল নিযুক্ত করা হয়েছে; দলটির নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান এবং উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা আছেন। এজাজ এই তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে, সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
মোহাম্মদ এজাজকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটির নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার পূর্বে তিনি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন, যা নদী গবেষণা, পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর উন্নয়নের কাজ করে। প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে গাবতলী গবাদি পশুর হাটের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্তে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এই সিদ্ধান্তের পরপরই এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল উত্তর সিটির কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তলবের আগে এজাজের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। গাবতলী গবাদি পশুর হাটের ইজারা বাতিলকে ‘ত্রুটি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এছাড়া ই‑রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ারের দখলভার এবং বিভিন্ন দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের সন্দেহ প্রকাশ পায়। এই সব বিষয়কে কেন্দ্র করে দুর্নীতি দমন কমিশন এজাজকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তলবের ফলে এজাজকে এখন অফিসে উপস্থিত হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। তদন্তের ফলাফল যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো অবৈধ কার্যক্রম হয়েছে, তবে তা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, এজাজের সহযোগিতার ইচ্ছা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক পর্যায়ে নজর কাড়ছে, কারণ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হবে জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। যদি তদন্তে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এজাজের সহযোগিতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি তাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রাখতে পারে। ভবিষ্যতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর তদারকি এবং নীতিমালা প্রয়োগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



