ডুডক আজিজ খানকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠিয়েছে, যেখানে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যানকে ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিং’ সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিসে নির্ধারিত তারিখে, অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার, ডুডকের সদর দফতরে উপস্থিতি এবং মৌখিক বক্তব্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে অভিযোগের বিষয়টি আপনার কোনো মন্তব্য না থাকাকে স্বীকার করা হবে। এই শর্তের ফলে আজিজ খানকে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা না দিলে, তদন্তে তার দৃষ্টিকোণকে অস্বীকার করা হবে।
শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রেরও ডুডক চাহিদা জানিয়েছে। সামিট গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তরের নথিপত্র, লেনদেনের তারিখ, শেয়ারহোল্ডারদের নাম ও পরিমাণসহ সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্ট সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। এই তথ্যগুলোকে তদন্তের মূল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
ডুডকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম তলবি চিঠি পাঠানোর বিষয়টি মিডিয়াকে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নোটিসের সব শর্তাবলী আইনগত ভিত্তিতে প্রণীত এবং কোনো অতিরিক্ত শর্ত যোগ করা হয়নি। তলবি চিঠিতে আজিজ খানের উপস্থিতি না হলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন। তার সিঙ্গাপুরের বাসস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি অবস্থানকে ডুডক তদন্তের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে দেখছে।
২৪ই মার্চ ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আজিজ খানের দেশে ফিরে আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বিদেশি বাসস্থানের কারণে, দেশের অভ্যন্তরে তার কোনো কার্যক্রম বা উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়নি।
ডুডক সামিট গ্রুপ এবং তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঘুষ, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঠানোর অভিযোগে তদন্ত করছে। এই অভিযোগগুলোকে প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রুপের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা যাচাই করা হবে।
আজিজ খানের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস পাঠানো তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নোটিসে উল্লেখিত শর্তগুলো পূরণ না হলে, ডুডক অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
ব্যবসা ও বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, সামিট গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তর রেকর্ডের অনুপস্থিতি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। শেয়ারহোল্ডাররা যদি এই নথি না পান, তবে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যদি আজিজ খান নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হন, ডুডকের নোটিসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী তার কোনো মন্তব্য না থাকাকে স্বীকার করা হবে। এই পরিস্থিতিতে, তদন্তে তার অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং সম্ভাব্য শাস্তি বাড়াবে।
বাজারে সামিট গ্রুপের শেয়ারের মূল্য সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকির কারণে অস্থিরতা দেখাতে পারে। বিশেষত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গ্রুপের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে শেয়ার বিক্রি বা হোল্ডিং কমাতে পারেন।
ডুডক যদি প্রমাণ পায় যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং ঘটেছে, তবে গ্রুপের সম্পদ জব্দ, শেয়ার হস্তান্তরের বাতিল এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে।
অধিকন্তু, ডুডকের তদন্তের ফলাফল যদি গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জড়িততা প্রকাশ করে, তবে তা শিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের সংকেত দেবে।
সংক্ষেপে, আজিজ খানের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস ডুডকের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শেয়ার হস্তান্তর রেকর্ডের দাবি এবং উপস্থিতি না হলে শাস্তির হুমকি গ্রুপের আর্থিক স্বচ্ছতা ও বাজারের স্থিতিশীলতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে এই মামলার অগ্রগতি ব্যবসা জগতে নজরদারির মাত্রা বাড়াবে এবং অনুরূপ অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপের উদাহরণ স্থাপন করবে।



