সর্বমিত্র চাকমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ও ডাকসু সদস্য, শারীরিক শাস্তি নিয়ে বিতর্কের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নোটিশ পেয়েছেন। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার কাজের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দাবি করা হয়েছে। এই নোটিশটি সোমবার প্রোক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের স্বাক্ষরে পাঠানো হয়।
শিশুদের শারীরিক শাস্তি বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (ইউএনসিআরসি) অনুসরণ করে নীতি গঠন করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা”ও একই দিক নির্দেশ করে।
শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৭০ অনুযায়ী, হেফাজতে থাকা শিশুর প্রতি আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা বা অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগের মতো কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই আরোপিত হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন শিশুর অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন যে শৃঙ্খলার নামে শিশুর শারীরিক শাস্তি অবৈধ, অমানবিক এবং মর্যাদাহানি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শিশুকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া কোনো শৃঙ্খলা রক্ষার উপায় নয়।
সর্বমিত্র চাকমা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকে জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু লোক বারবার ইটপাটকেল করে এবং শিক্ষার্থীদের শাসন না করলে তাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তিনি দাবি করেন যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ ধরনের আচরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও শৃঙ্খলাকে ক্ষুণ্ন করে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। নোটিশে সর্বমিত্রকে তার কাজের ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি সর্বমিত্রের কাজ শিশু আইন ২০১৩ এর ধারা ৭০ লঙ্ঘন করে প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব। আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা আরোপিত হতে পারে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মানবাধিকার গোষ্ঠী শারীরিক শাস্তি বিরোধী আন্দোলন বাড়িয়ে তুলেছে। তারা দাবি করে যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত এবং লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি কোনো শিক্ষার্থী বা শিশু শারীরিক শাস্তি পায়, তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত। শিশুর অধিকার রক্ষার জন্য জাতীয় হটলাইন ও আইনগত সেবা ব্যবহার করা যায়।



