চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলায় ফুলতল এলাকায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া একটি নির্বাচনী পথসভা পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত ভোটারদের সামনে ১৭ বছরের শাসনকালে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে আসা নিপীড়ন, গুম, হত্যাকাণ্ড এবং কারাবাসের নতুন রূপকে নিয়ে মন্তব্য করেন।
ভুঁইয়া জানান, গত এক বছর ও অর্ধেক সময়ে তারা দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শহরের বাজার, এমনকি রাষ্ট্রের শীর্ষ স্তর পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের আধিপত্যের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসকে আর সহ্য না করে ভোটের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ৩০০টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষিত হয়েছে এবং এই প্রার্থীদের দেশের মুক্তির প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখা উচিত। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচয় বা পার্টি লেবেল নিয়ে আলোচনা না করে, ভোটারদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
ভুঁইয়া আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক দল দেশের শাসনব্যবস্থা, সংস্কার এবং সার্বভৌমত্বের পথে অগ্রসর হতে চায়। তিনি দাবি করেন, যদি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন না আসে, তবে দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বপ্ন আবার পিছিয়ে যাবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে একটি দল সংস্কারের কথা বলে আসছে, কিন্তু বাস্তবে সংস্কারের সময় এলে তাদের কণ্ঠ নিভে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে নতুন স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান রোধ করা সম্ভব হবে।
ভুঁইয়া ভোটারদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন, যদি ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়, তবে তারা পাঁচ বছর পর্যন্ত দেশের সেবা করতে পারবে। অন্যথায়, যদি গণভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন না আসে, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।
তিনি অতীতের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করেন: ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদী শক্তির বিতাড়ন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লব। এই ঘটনাগুলোকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে একই ধরনের স্বৈরাচারী শক্তি আবার একত্রিত হয়ে ভোটকে বাধা দিতে চায়।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি এই ধরনের অভিযোগকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধ অংশ। তবে এ মুহূর্তে দলটি ভুঁইয়ার মন্তব্যের উপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক দলের এই ধরনের র্যালি ও ভোটার আহ্বান তাদের জোটের প্রভাব বাড়াতে পারে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল যদি সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া না দেয়, তবে ভোটারদের মধ্যে জোটের প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্রের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত দেশের শাসনব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।



