স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী সময়কালে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সব স্তরে প্রয়োগ হবে এবং সাধারণ সেবা ও জরুরি সেবার কোনো বিঘ্ন না হয় তা লক্ষ্য।
দ্বিতীয় সার্বিক নির্বাচনের পূর্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল পরিচালক আবু হুসাইন মো. ময়নুল আহসান নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি, তাই স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করা প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই নির্দেশনা অস্থায়ী হলেও নির্বাচনী সময়ে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
নির্দেশনাগুলি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিভাগীয় পরিচালক, জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলোকেও এই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এভাবে নিশ্চিত করা হয় যে প্রতিটি স্তরে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ছয়টি, বিভাগে চারটি, জেলা স্তরে তিনটি, উপজেলা স্তরে দুইটি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে। প্রতিটি টিমে ডাক্তার, নার্স ও পারামেডিকসহ প্রয়োজনীয় কর্মী থাকবে, যারা জরুরি সেবা, রোগী ত্রায়েজ এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য সমস্যার ত্বরিত সমাধানে কাজ করবে। টিমের সদস্য নির্বাচন manpower উপলব্ধতা ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে করা হবে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস ও সিভিল সার্জনের অফিসে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, যা নির্বাচনী সময়ে যে কোনো স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হবে। এই কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যাতে তথ্যের তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান ও সমন্বয় সম্ভব হয়। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জরুরি সেবা, রিসোর্স অ্যালোকেশন এবং পরিস্থিতি রিপোর্ট করা হবে।
হাসপাতালগুলোকে জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্টাফ যুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সারাদিন প্রস্তুত অবস্থায় রাখতে হবে এবং আইসিইউ বেডের কিছু অংশ সংরক্ষণ করতে হবে। জরুরি সেবার গতি বাড়াতে রোগীর প্রাথমিক মূল্যায়ন ও ত্রায়েজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে নির্বাচনী সময়ে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রধান ছুটিতে থাকেন, তবে তাকে একজন যোগ্য কর্মকর্তা দায়িত্বে নিয়োগ করে তার নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানাতে হবে। এই তথ্য দ্রুত আপডেট করা হবে যাতে কোনো সময়ে দায়িত্বের ফাঁক না থাকে। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে জরুরি বিভাগ সর্বদা চালু রাখতে এবং ডিউটি ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রোগীকে রেফার করার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান বাধ্যতামূলক, যাতে রোগীর অবস্থার তীব্রতা কমে। এছাড়া জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম স্টকে রাখতে হবে। এই শর্তগুলো রোগীর নিরাপত্তা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে।
এই সকল ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। জরুরি সেবা প্রদানকারী ইউনিটগুলোকে দৈনিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে যাতে কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
নাগরিকদের জন্য এই নির্দেশনা মানে নির্বাচনী দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারে কোনো বাধা না হওয়া। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে নিকটস্থ হাসপাতাল বা অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত এবং জরুরি নম্বরগুলো হাতের কাছে রাখা উচিৎ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



