কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ২৬ জানুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী জনসভায় আমির শফিকুর রহমান দলীয় নীতির মূল দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি জাতির সকল মানুষের মুক্তি ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং নিজের বা দলের কর্মীদের জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতি করে না।
বক্তব্যের সময় তিনি কুষ্টিয়ার সন্তান শহীদ আবরার ফাহাদের কথা উল্লেখ করে, তাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। ফাহাদকে বিদ্রোহী ও বিপ্লবীরূপে চিহ্নিত করে, তিনি বলেন ফাহাদ কলম তুলে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, যা তার মৃত্যুর মূল কারণ।
শফিকুর রহমানের মতে, ফাহাদের হত্যাকারীরা মানবিক নৈতিকতার কোনো সীমা জানে না; তিনি তাদেরকে চার পায়া প্রাণীর চেয়েও নিচু ও নিকৃষ্ট বলে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি তরুণকে ফাহাদের মতো নায়ক হতে হবে, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে।
জনসভায় তিনি সকল গৃহযুদ্ধের যোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, একেকজন আবরার ফাহাদ ও একেকজন আবু সাঈদের ত্যাগকে স্মরণীয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি যোগ করেন, হাজার, লক্ষ, কোটি বিপ্লবী এই দেশে জন্ম নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে, এবং মায়েদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে, তাদের চোখে রক্তের দাগ দেখেছেন।
গুমের বিষয়েও শফিকুর রহমান বিস্তারিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বহু পরিবার বছরের পর বছর গুমের তালিকায় থাকা আত্মীয়কে খুঁজে পেতে চেষ্টা করেছে; বেশিরভাগই আলহামদুলিল্লাহ জীবিত বা মৃত দেহের মাধ্যমে ফিরে এসেছে। তবে এখনও কিছু গুম রয়ে গেছে, যার মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ও আরও আটজনের নাম অন্তর্ভুক্ত, যাদের সন্ধান এখনো চলমান।
অবশেষে তিনি কুষ্টিয়া থেকে চাল নিয়ে যাওয়া ট্রাক মালিকদের অভিযোগ তুলে, প্রতি ট্রাক থেকে ৫,০০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এই চাঁদাবাজির ফলে চালকল ও ট্রাক মালিকদের ক্ষতি হচ্ছে, এবং পণ্যের দাম কমাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
শফিকুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জামায়াত-এ-ইসলামি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে, সিন্দিকেট ভেঙে চুরমার করবে এবং চাঁদাবাজিতে লিপ্তদের কঠোরভাবে শাস্তি দেবে। তিনি এই পদক্ষেপগুলোকে দেশের কৃষি ও পরিবহন খাতের স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শফিকুর রহমানের এই ধরনের র্যাডিকাল বক্তব্য পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে। তবে বিরোধীরা এই রেটোরিককে রাজনৈতিক রঙে রঙিন বলে সমালোচনা করতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামির এই নীতি-ভিত্তিক প্রচারণা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



