রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (IFFR) ৫৫তম সংস্করণে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার ‘The Fall of Sir Douglas Weatherford’ শিরোনামের চলচ্চিত্রটি বিশ্বপ্রিমিয়ার করেছে। এই চলচ্চিত্রটি বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতা প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ডিরেক্টর সিয়ান ডান, স্কটল্যান্ডের জন্মগ্রহণকারী চলচ্চিত্র নির্মাতা, এই কাজের মাধ্যমে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিকশন ফিচার উপস্থাপন করছেন। পূর্বে তিনি ‘British by the Grace of God’ এবং ‘Kingdom Come’ শিরোনামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে স্বীকৃতি অর্জন করছিলেন।
চলচ্চিত্রের প্রধান ভূমিকায় পিটার মুল্লান অভিনয় করেছেন, যিনি ‘My Name Is Joe’, ‘Braveheart’ এবং ‘Trainspotting’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রে পরিচিত। গেইল র্যাঙ্কিন, জাকব অফটেব্রো, সিড সাগার এবং লুইস ম্যাকডগলও কাস্টে অন্তর্ভুক্ত।
গল্পের পটভূমি স্কটল্যান্ডের একটি কাল্পনিক গ্রাম আরবেরলচ, যেখানে ১৮শ শতাব্দীর উদ্ভাবক ও দার্শনিক স্যার ডগলাস ওয়েদারফোর্ডের চারপাশে গড়ে ওঠা স্থানীয় পুরাণের কেন্দ্রবিন্দু। ঐ গ্রামটি ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক কাহিনীর মিশ্রণে গড়ে উঠেছে।
গ্রামটির দর্শনীয় কেন্দ্রস্থলে স্যার ডগলাসকে সম্মান জানাতে একটি ভিজিটর সেন্টার রয়েছে, যেখানে ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করেন কেনেথ, যাকে পিটার মুল্লান অভিনয় করেছেন। কেনেথ স্যার ডগলাসের পোশাক পরিধান করে দর্শকদের ঐতিহাসিক তথ্য প্রদান করেন।
একই সময়ে একটি আন্তর্জাতিক ফ্যান্টাসি টিভি সিরিজের শুটিং গ্রামটিতে শুরু হয়, যা ‘The White Stag of Emberfell’ নামে পরিচিত। শুটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে রঙিন পোশাক পরা কসমপ্লে ভক্তদের দল গ্রামটিতে প্রবেশ করে, যা স্থানীয় পরিবেশে নতুন রঙ যোগায়।
কসমপ্লে ভক্তদের উপস্থিতি ও শুটিংয়ের বিশাল সেটআপ স্থানীয় পুরাণের সঙ্গে সংঘর্ষের সূচনা করে। কেনেথের পরিচালিত ঐতিহাসিক ট্যুর এখন ফ্যান্টাসি শোয়ের দৃশ্যপট এবং কল্পনাপ্রবণ চরিত্রের ছায়ায় ম্লান হয়ে যায়।
চলচ্চিত্রটি প্রশ্ন তুলেছে কীভাবে মানুষ ইতিহাস ও গল্পকে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে এবং কখন তা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় পুরাণ ও আধুনিক ফ্যান্টাসি শোয়ের মধ্যে টানাপোড়েনের মাধ্যমে এই বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়েছে।
ডিরেক্টর ডান রঙিন পোশাক, কসমপ্লে এবং কালো হাস্যরসের সমন্বয়কে গল্পের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই উপাদানগুলো দর্শকের কাছে ইতিহাসের গৌরব ও আধুনিক মিডিয়ার প্রভাবকে একসাথে উপস্থাপন করে।
শুটিংয়ের জন্য গ্রামটির প্রকৃত দৃশ্যপট ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পুরাণের মিশ্রণ চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্বপ্রিমিয়ার পর চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং IFFR-এর বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পেতে পারে।
ডান উল্লেখ করেছেন, এই কাজের মাধ্যমে তিনি মানুষের পরিচয় গঠনে ইতিহাস ও কল্পনার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছেন। তিনি আশা করেন দর্শকরা গ্রামটির গল্পের মাধ্যমে নিজের জীবনের গল্প পুনর্বিবেচনা করবেন।
‘The Fall of Sir Douglas Weatherford’ ফ্যান্টাসি, ইতিহাস এবং আধুনিক মিডিয়ার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে, দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে। চলচ্চিত্রটি রটারডাম উৎসবে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ডের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও কসমপ্লে সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখাবে।



