সরকার চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় প্রায় ৮৫০ একর জমি রক্ষা শিল্প পার্কে রূপান্তর করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক রক্ষা শিল্প বাজারে প্রবেশ করা।
বিকাশের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিদেশি সেবা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ঘোষণা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA) এর বোর্ড মিটিংয়ের পর নেওয়া হয়েছে, যার সভাপতিত্ব ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস করেছেন।
BEZA বোর্ডের নীতি সিদ্ধান্তে মিরসরাইকে রক্ষা শিল্পের জন্য বিশেষায়িত জোন হিসেবে মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবে সরকার রক্ষা শিল্পের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি করে দেশের সামরিক সরবরাহের স্বনির্ভরতা বাড়াতে চায়।
উল্লেখযোগ্য যে, এই জমি আগে পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক জোন হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং গত বছরের জুন পর্যন্ত সেই প্রকল্প চালু ছিল। তবে একই সময়ে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে জমি ফাঁকা অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল।
আশিক চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান, এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ অর্দন্যান্স ফ্যাক্টরির মডেলকে পুনরাবৃত্তি করার উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগ এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সরবরাহকারী চুক্তির মাধ্যমে রক্ষা শিল্পের আধুনিকায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও থাকবে।
বিশ্বের সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে মৌলিক সামরিক সরবরাহের ঘাটতি দেখা গেছে, যা উন্নত প্ল্যাটফর্মের চেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি, তাই ক্যাপটিভ প্রোডাকশন ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। ৮৫০ একর জমির সব অংশ একসাথে ব্যবহার করা হবে না; প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে সীমিত এলাকায় প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা হবে।
আশিক চৌধুরী সম্ভাব্য বিদেশি অংশীদার দেশ বা নির্দিষ্ট পণ্যের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ না করে বিষয়টি কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক হিসেবে উল্লেখ করেন। ফলে পার্টনারশিপের বিবরণ গোপন রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন যাই হোক না কেন, এই প্রকল্প চালু থাকবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। রক্ষা শিল্পের সক্ষমতা জাতীয় অগ্রাধিকার এবং কোনো রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থের বাইরে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, রক্ষা শিল্প পার্কের প্রতিষ্ঠা স্থানীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশের রক্ষা পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক রক্ষা বাজারের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
সার্বিকভাবে, মিরসরাইতে রক্ষা শিল্প পার্কের পরিকল্পনা সরকারের বৃহত্তর শিল্প উন্নয়ন কৌশলের অংশ এবং দেশকে রক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



