২৬ জানুয়ারি সোমবার, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত জব ফেয়ার ও সেমিনারের উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি উল্লেখ করেন যে, যশোরকে আধুনিক ডিজিটাল ও টেক সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, যশোর হাইটেক পার্কে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ভাড়া হ্রাস করা হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলো সহজে প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পার্কের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়বে এবং স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে ত্বরান্বিত করা যাবে।
এছাড়াও, যশোরে দেশের বৃহত্তম টিয়ার-৩ ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার নির্মাণাধীন রয়েছে। এই ডেটা সেন্টারটি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের আইটি সেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও যশোরকে প্রযুক্তি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে রূপান্তরিত করেছে। বিভিন্ন শিল্প সংস্থা ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে জব ফেয়ার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণগুলো ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি স্বীকৃত এবং আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন অর্জন করবে।
প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত দক্ষ যুবকদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে যশোরে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে উৎসাহিত করবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীও উপস্থিত থেকে সরকারী কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সরকার বিভিন্ন স্তরে সমর্থন প্রদান করছে।
বিডিএসেট প্রকল্প এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘চেঞ্জিং জব অপারচুনিটিজ ইন দ্য এজ অব এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম এম এ হাসেম, যিনি এআই ও রোবোটিক্সের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান প্রবণতা বিশ্লেষণ করেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, যশোরসহ দেশের ২৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সিভি সংগ্রহ করছে এবং আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের সমন্বয়ে এক লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। মেলায় সিভি গ্রহণের পাশাপাশি সিভি রাইটিং ও ক্যারিয়ার পরামর্শের সেবা প্রদান করা হবে, যাতে যুবকদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।



