মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন আজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গমের নতুন শিপমেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান যে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ মার্কিন গমের অষ্টম বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই অবস্থান অর্জন করা সম্ভব হয়েছে গত বছর স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে, যা দেশের গমের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরীয় সিলো জেটিতে প্রায় ৬০,০০০ টন উচ্চমানের গমের আগমন উদযাপন করা হয়। গমটি MV ক্লিপার ইসাডোরা নামের জাহাজে ৫৭,২০৩ টন পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়েছে এবং ১৯ জানুয়ারি বন্দর বহির্ভাগে নোঙর দিয়ে অপেক্ষা করছিল। দুইটি লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে সিলো জেটিতে প্রথমে ৫,৪০০ টন গমের আনলোডিং শুরু হয়েছে।
এই শিপমেন্টের পটভূমি হল জুলাই ২০২৪-এ বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন গম সংস্থা (US Wheat Associates) এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার-থেকে-সরকারা স্মারক চুক্তি (MoU)। চুক্তির আওতায় পাঁচ বছরের সময়সীমার মধ্যে প্রতি বছর ৭ লক্ষ টন গম আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য হ্রাসে সহায়ক হবে।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, গমের এই সরবরাহ বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের মধ্যে বর্ধিত কৃষি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষি পণ্যের মূল্যবান গ্রাহক এবং এই শিপমেন্ট উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
গম দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যদ্রব্য, চালের পরে, তবে দেশীয় উৎপাদন কেবলমাত্র জাতীয় চাহিদার প্রায় ১৩ শতাংশই পূরণ করে। এই ঘাটতি পূরণে মার্কিন কৃষকরা যথাযথ পরিমাণে গম সরবরাহ করতে সক্ষম, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারও অনুষ্ঠানে বলেন, পাঁচ বছরের MoU অনুযায়ী প্রতি বছর ৭ লক্ষ টন গম আমদানি করা হবে এবং আজ পর্যন্ত প্রাপ্ত গমের গুণগত মান অত্যন্ত সন্তোষজনক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গমের উচ্চ মান ও সময়মতো সরবরাহের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিমাণে গমের শিপমেন্টের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই চুক্তি মার্কিন গম রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে দেবে, একইসাথে বাংলাদেশে গমের দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। দেশীয় গমের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা বাড়বে, তবে গুণগত মানের উন্নতি ও সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।
ভবিষ্যতে গমের শিপমেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক গমের দাম, লজিস্টিক খরচ এবং আবহাওয়া পরিবর্তনসহ কিছু ঝুঁকি উপাদান নজরে রাখা হবে। তবে বর্তমান চুক্তি এবং ইতিমধ্যে গৃহীত লজিস্টিক ব্যবস্থা এই ঝুঁকিগুলোকে কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে, ফলে বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকার উভয়েরই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষিত হবে।



