ব্রিটিশ গায়িকা বোনি টাইলার, যিনি গায়নশিল্পে গ্যানোর হপকিন্স নামে পরিচিত, তার ১৯৮৩ সালের হিট গীত ‘টোটাল ইক্লিপ্স অফ দ্য হার্ট’ স্পটিফাইতে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অতিক্রম করেছে। এই মাইলফলক তাকে টেলর সুইফট, দ্য উইকএন্ড ও এমিনেমের মতো শিল্পীদের সঙ্গে এক বিলিয়ন ক্লাবের সদস্য করে তুলেছে।
গায়িকাটি জানান যে, এই বিশাল স্ট্রিম সংখ্যা সত্ত্বেও তিনি গানের থেকে প্রাপ্ত আয় খুবই সীমিত, প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। তিনি উল্লেখ করেন যে, গানের জনপ্রিয়তা তার ব্যাংক ব্যালেন্সে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।
বোনি টাইলার ১৯৪৬ সালে ওয়েলসের নীথে শহরের একটি কাউন্সিল হাউসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ গায়কী ক্যারিয়ার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। স্যুয়ানসি শহরের একটি ক্লাবে ট্যালেন্ট স্কাউট রজার বেল তার কণ্ঠস্বরের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তাকে শিল্পজগতে পরিচয় করিয়ে দেন।
১৯৭৭ সালে তিনি ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ শিরোনামের প্রথম সিঙ্গেল প্রকাশ করেন, তবে তা তেমন সাড়া পায় না। পাঁচ বছর পর ১৯৮৩ সালে ‘টোটাল ইক্লিপ্স অফ দ্য হার্ট’ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার ক্যারিয়ার পরিবর্তিত হয়। গীতটি মূলত জিম স্টেইনম্যানের রচনা এবং পিয়ানোতে প্রথমে তার হাতে বাজানো হয়।
গায়িকা স্মরণ করেন, গানের মূল সংস্করণ আট মিনিটের বেশি দীর্ঘ ছিল, যা রেডিওতে বাজানোর জন্য উপযুক্ত ছিল না। তাই চার মিনিটের রেডিও এডিট তৈরি করা হয়, যা দ্রুতই শোনার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। যুক্তরাজ্যে গীতটি দুই সপ্তাহ শীর্ষে রইল, আর যুক্তরাষ্ট্রে চার সপ্তাহ ধরে চার্টের শীর্ষে অবস্থান করে।
৪৩ বছর পর গানের স্থায়িত্ব এখনো অটুট। স্পটিফাই থেকে এক বিলিয়ন স্ট্রিমের স্বীকৃতি পেতে গায়িকা একটি প্লেট পেয়েছেন, যা তিনি তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পেয়েছেন। এই স্বীকৃতি তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে আনন্দ দিয়েছে, কারণ তিনি বলেন, পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৮.৩ বিলিয়ন, তবু তার গীতটি এত বড় পরিসরে শোনা হচ্ছে।
বোনি টাইলার গানের স্থায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘টোটাল ইক্লিপ্স অফ দ্য হার্ট’ এখনো বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে নিয়মিত ব্যবহার হয়। তিনি গানের প্রতি তার ভালোবাসা এবং দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করা আনন্দের কথা শেয়ার করেন, যদিও আর্থিক দিক থেকে তা তেমন লাভজনক নয়।
গায়িকাটি এখনও কনসার্টে এই গীতটি পরিবেশন করতে আনন্দ পান এবং তিনি বলেন, গানের দীর্ঘায়ু তাকে কখনো ক্লান্তি দেয় না। তার মতে, গানের সুর ও লিরিক্সের শক্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠছে।
‘টোটাল ইক্লিপ্স অফ দ্য হার্ট’ গানের সাফল্য তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি এনে দিয়েছে। গানের শিরোনাম ও সুরের অনন্যতা, পাশাপাশি বোনি টাইলারের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের সমন্বয়ই এই সাফল্যের মূল কারণ।
গায়িকাটি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্পে কাজ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তার ভক্তদের জন্য এই ক্লাসিক গীতটি সর্বদা বিশেষ স্থান বজায় রাখবে। তিনি তার ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের সমর্থনই আমাকে এই গানের মাধ্যমে আজও জীবন্ত রাখে’।
বোনি টাইলারের গানের এই বিশাল স্ট্রিম সংখ্যা সঙ্গীত শিল্পে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরে। যদিও স্ট্রিমিং থেকে সরাসরি আয় সীমিত, তবে গানের সাংস্কৃতিক প্রভাব ও দীর্ঘস্থায়িত্ব আর্থিক দিকের চেয়ে বেশি মূল্যবান বলে তিনি জোর দেন।
এই অর্জন গায়িকাকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং তার গানের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। গানের ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো অজানা, তবে বোনি টাইলারের কণ্ঠস্বর ও গীতের শক্তি আগামী বছরগুলোতেও শোনার তালিকায় শীর্ষে থাকবে।



