রবিবার গ্রীষ্মের শেষের দিকে মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের সাবানাস ফুটবল মাঠে গুলিবর্ষা ঘটায় কমপক্ষে এগারো জনের মৃত্যু এবং প্রায় এক ডজনের বেশি আহত। গুলিবর্ষা চালানো গুলিবিদরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হঠাৎ করে গুলি চালায়, ফলে ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
সাক্ষীদের মতে, কয়েকটি গাড়ি নিয়ে গুলি চালানো দলটি মাঠের চারপাশে ঘুরে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুদের ওপর অবিরাম গুলি চালায়। গুলি চালানোর সময় কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য না রেখে বিস্তৃতভাবে গুলি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
ম্যাচের পর অনেক পরিবার ও বন্ধুবান্ধব মাঠে একত্রিত হয়ে চা-স্ন্যাকের জন্য বসে ছিল। গুলিবর্ষায় অন্তত একজন নারী ও এক শিশুও প্রাণ হারায়, বাকি শিকারের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারী অন্তর্ভুক্ত।
এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার হয়নি, তবে গুয়ানাহুয়াতো রাজ্য গত বছর মেক্সিকোর সর্বোচ্চ সংখ্যক হত্যার রেকর্ড ধারণ করেছিল।
পাড়ার বাসিন্দারা জানান, গুলি চালানোর সময় প্রায় একশো গুলি শোনা গিয়েছিল। গুলি চালানো দলটি লোমা দে ফ্লোরেস পাড়া অবস্থিত কাবানাস মাঠে প্রবেশ করে ব্যাপক গুলিবর্ষা চালায়।
স্থানীয় ও ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। উভয় স্তরের নিরাপত্তা সংস্থা এখনো শিকারের পরিচয় ও গুলিবিদদের সনাক্তকরণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে।
এই হামলার এক দিন আগে শহরে একই রকমের সহিংসতা দেখা গিয়েছিল; পাঁচজন পুরুষ নিহত হয় এবং আরেকজনকে অপহরণ করা হয়। এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
গুয়ানাহুয়াতোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি চুরির সঙ্গে যুক্ত অপরাধ। গ্যাংগুলো প্রায়ই তেল ট্যাঙ্কার ট্রাক দখল করে বা রাষ্ট্রের তেল কোম্পানি পেমেক্সের পাইপলাইন চুরি করে।
সালামাঙ্কা শহরে পেমেক্সের একটি বড় রিফাইনারি অবস্থিত, যা গ্যাং আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিফাইনারি ও তার আশেপাশের এলাকায় পূর্বে বহুবার গ্যাং-সংযুক্ত হামলা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (CJNG) ও কার্টেল দে সান্তা রোজা দে লিমা (CSRL) এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। উভয় গ্যাংই তেল চুরি, মাদক পাচার এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত।
এই গ্যাংগুলোর কার্যক্রম মেক্সিকোর সীমানা অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে; চুরি করা জ্বালানি ও অবৈধ মাদকের প্রবাহ উভয় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট CJNG-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে CSRL-কে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাংগুলোকে লক্ষ্য করে অবৈধ মাদকের সরবরাহ বন্ধ করার এবং তেল চুরির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি গ্যাং-সংযুক্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং শিকারের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। গুলিবিদদের সনাক্তকরণ ও দায়িত্বশীলদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোর পদক্ষেপ নেবে।



