20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিদ্যুৎ বিলের ২০% রিবেটের নতুন ব্যবস্থা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিদ্যুৎ বিলের ২০% রিবেটের নতুন ব্যবস্থা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য খামার, হ্যাচারি, গবাদি পশু ও পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২০ শতাংশ রিবেট প্রদান করবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ানো। রিবেটের বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে মোট ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ রিবেটের এই নতুন নীতি বিদ্যমান নীতিমালার অংশ, যেখানে বর্তমানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি উৎসাহ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে মোট ১৬টি খাতে ২০ শতাংশ রিবেট প্রদান করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চারটি অতিরিক্ত খাতকে রিবেটের তালিকায় যুক্ত করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট খামার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ খরচে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন রিবেটের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে পশু ও পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প, ফিশ ফিড উৎপাদন শিল্প, পোল্ট্রি শিল্প এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। এই চারটি সেক্টর দেশের প্রাণিজ পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিদ্যুৎ খরচের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। রিবেটের মাধ্যমে এই শিল্পগুলোকে আর্থিক স্বস্তি প্রদান করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।

দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মধ্যে দুধ পাস্তুরিকরণ, গুঁড়ো দুধ, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টান্ন, পনির, ঘি, মাখন, চকোলেট এবং দইসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এই পণ্যগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উচ্চ চাহিদা রাখে এবং রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিদ্যুৎ রিবেটের ফলে উৎপাদন খরচ কমে, দাম প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়বে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিবেটের সুবিধা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট খামার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিলের মূল পরিমাণের উপর ২০ শতাংশ ছাড় পাবেন। ভর্তুকি তহবিলের ব্যবহার স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হবে এবং রিবেটের প্রভাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে যে সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজনীয়দের কাছে পৌঁছায় এবং নীতির লক্ষ্য পূরণে কার্যকর হয়।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বিদ্যুৎ রিবেটের ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সরাসরি লাভের মার্জিন বাড়াবে। কম খরচের সুবিধা নতুন উদ্যোক্তাদের বাজারে প্রবেশের বাধা হ্রাস করবে এবং বিদ্যমান ব্যবসার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। ফলে শিল্পে বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের প্রাণিজ পণ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাবে।

এই নীতি বাস্তবায়নের পর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি সম্ভাবনাও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রিবেটের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বাংলাদেশের পণ্যগুলোর গুণগত মানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সরকার এই উদ্যোগকে দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের সমন্বিত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।

সারসংক্ষেপে, বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ রিবেট এবং ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। নীতি বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে রিবেটের প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments