মদন উপজেলার নেত্রকোনা থানা অধীনে আজহারুল ইসলাম নামের একজন পুলিশ সদস্যের গ্রামীণ বাড়িতে রবিবার রাত প্রায় একটায় ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। অপরাধীরা বাড়ির বাসিন্দাদের হাত-মুখ বেঁধে প্রায় দশ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ দল পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম নৌবাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় কর্মরত এবং তার পরিবার গ্রামেই বসবাস করে। তার ছোট ভাই জাকু মিয়া ও স্বজনরা ওই বাড়িতে থাকেন। রাতের প্রায় একটার দিকে, অজানা ব্যক্তিরা বাড়িতে প্রবেশ করে বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে বাধা দিয়ে স্বর্ণের গয়না চুরি করে।
ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার জানান, তার স্বামী অসুস্থ থাকায় কয়েকজনকে দরজা খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে তিনি কথা বলতে চাইলেন, তখনই অপরাধীরা তার হাত বেঁধে এবং আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চোরদের হাতে অস্ত্র ছিল এবং তারা জাকু মিয়াকে চা পান করিয়ে গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়েছিল।
মদন থানার ওসি হাসনাত জামান জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো দাখিল করা হয়নি। প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজহারুল ইসলাম নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে কর্মরত থাকলেও তার গ্রামীয় বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। বাড়িতে ঘটনার সময় তার স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
ডাকাতদের কার্যক্রমের সময় তারা বাড়ির দরজা ও জানালা ভেঙে প্রবেশ করে, বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে বাধা দিয়ে স্বর্ণের গয়না চুরি করে। চোরদের হাতে অস্ত্রের উপস্থিতি ঘটনার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার উল্লেখ করেন, স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি কয়েকজনকে দরজা খুলে দিতে বাধ্য হন। সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে তিনি কথা বলতে চাইলেন, তখনই অপরাধীরা তার হাত বেঁধে এবং আলমারির তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ডাকাতদের দ্বারা চুরি করা স্বর্ণালংকারের পরিমাণ প্রায় দশ ভরি, যা স্থানীয় বাজারে উচ্চ মূল্যের। চুরি হওয়া গয়না এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি এবং তদন্তে এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মদন থানার ওসি জানান, তদন্তের প্রথম ধাপে ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া, আশেপাশের গ্রামবাসীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
অপরাধের সন্দেহভাজনদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে, স্থানীয় সূত্রে কিছু সন্দেহভাজন নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু রয়েছে।
থানার কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, কোনো ধরনের হিংসা বা সহিংসতা ঘটলে তা দ্রুত আইনগতভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়ানো হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। গ্রাম এলাকায় রাতের সময় অতিরিক্ত গার্ড বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে।
ডাকাতি ঘটনার ফলে পরিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। স্থানীয় সমাজে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
অবশেষে, মদন থানার ওসি হাসনাত জামান পুনরায় উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে শীঘ্রই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।



