বিশ্বব্যাপী সোনার দাম ২০২৬ সালের প্রথম মাসেই আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলার সীমা অতিক্রম করেছে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কয়েক মাস আগে ঘটেছে। এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে তীব্র মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন ঝুঁকি‑সুযোগের সূচনা করে।
বিশ্লেষক সংস্থাগুলি ২০২৫ সালে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং ২০২৬ সালের প্রথম দিকে দাম ৫,০০০ ডলার অতিক্রম করবে বলে অনুমান করেছিল। তবে বাস্তবে এই সীমা বছরের শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পর্শ করা হয়, যা বাজারের প্রত্যাশাকে অতিক্রম করেছে।
এই অপ্রত্যাশিত উত্থানের পেছনে আন্তর্জাতিক ভূ‑রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কার্যক্রমের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে গেছে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এবং গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তীব্র মতবিরোধের খবর বিবিসি জানিয়েছে, যা আর্থিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ব সোনার কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ২,১৬,২৬৫ টন সোনা উত্তোলন করা হয়েছে। এই পরিমাণ সোনা তিন থেকে চারটি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল পূর্ণ করতে সক্ষম। উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৫০ সালের পর উত্তোলিত সোনার অংশ অধিকাংশই আধুনিক খনন প্রযুক্তি ও নতুন ভান্ডার আবিষ্কারের ফলে সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (Us Geological Survey) আরও জানিয়েছে যে ভূগর্ভস্থ মজুতে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪,০০০ টন সোনার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই সম্পদ এখনো উত্তোলনের পর্যায়ে না, তবে ভবিষ্যতে সরবরাহের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরবরাহের দিক থেকে, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে পরবর্তী কয়েক বছরে সোনার উত্তোলনের গতি স্থিতিশীল হতে পারে। তবে ভূ‑রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে, কারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকবে।
বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রবিবারের বাজারে ভরির দাম দেড় হাজার টাকা বাড়িয়ে ২,৫৭,০০০ টাকায় স্থির করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তর। নতুন হারের ভিত্তিতে, আজ সোমবার থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হবে ২,৫৭,১৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট ২,৪৫,৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১০,৪১৯ টাকা, এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে ভরিপ্রতি ১,৭২,৯১৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
স্থানীয় বিক্রেতা ও ব্যাংকগুলো এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ সোনার চাহিদা বাড়ার ফলে তাদের লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, ভোক্তারা উচ্চ মূল্যের কারণে সোনার ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, যদি আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, তবে সোনার দাম আরও উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে। তাই বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।



