কুষ্টিয়ার আব্রার ফাহাদ স্টেডিয়ামে ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান রেলিভ্যান্ট রেলিক্সের অবনতি ও তার রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি হেলিকপ্টার দিয়ে সমাবেশে পৌঁছে, কুষ্টিয়ার প্রধান নদী পদ্মা ও গোরাইকে মরুভূমির মতো বর্ণনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, নদী শুষ্ক হলে উপরের বন্যা জলের প্রবাহ চ্যানেলে আটকে না থেকে দু’পাশের তীরে ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক ক্ষতি করে।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, প্রতি বছর নদী খননের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়, তবে তহবিলের বেশিরভাগই অদৃশ্য হয়ে যায় এবং প্রকৃত খনন কাজ হয় না। তিনি অতীত ৫৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোকে একই রকম নীতি অনুসরণ করার অভিযোগ করেন। “নদী হল আল্লাহর দান, কিন্তু ধারাবাহিক অবহেলা ও দুর্নীতির ফলে সেগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে,” তিনি বলেন।
দুই দিন আগে উত্তর বাংলার কিছু এলাকায় একই রকম নদী ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখার পর, তিনি সেখানে করা সফরের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে, নদী রক্ষা করার উদ্যোগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন। “ইন শা আল্লাহ, আমরা এই অঞ্চলের নদী পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করব,” তিনি যোগ করেন, যা তার রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শফিকুর রহমান আরও জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে শত শত মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে সাধারণ নাগরিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ ধরনের মামলাকে “ব্যবসা” হিসেবে সমালোচনা করে, বিচারিক ব্যবস্থার অপব্যবহারকে নিন্দা করেন।
কুষ্টিয়াকে দেশের অন্যতম বড় ধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে, তিনি ট্রাক চালকদের উপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপের অভিযোগ তুলেন। তিনি বলেন, প্রতি ট্রাক থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে, যা চালক ও ধান মিলের মালিকদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আর্থিক চাপকে তিনি রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর আর্থিক শোষণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বার্থসিদ্ধি বা পার্টি কর্মীদের পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং দেশের দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিবেদিত। তিনি ভবিষ্যতে দরিদ্রদের খাবার ও পোশাক সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। “ইন শা আল্লাহ, এটাই আমাদের লড়াই,” তিনি সমাবেশে শেষ করেন।
এই বক্তব্যের পর, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে নদী রক্ষা ও মিথ্যা মামলার বিরোধিতা জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক যোগ করতে পারে। কুষ্টিয়ার ধান বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং স্থানীয় জনগণের সমস্যার প্রতি মনোযোগ দিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্য রাখছেন।
অবশেষে, শফিকুর রহমানের রেলিভ্যান্ট রেলিক্সের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থনৈতিক শোষণের অভিযোগের ফলে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে। তিনি আগামী নির্বাচনে এই বিষয়গুলোকে মূল মঞ্চে তুলে ধরতে ইচ্ছুক, যা স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে।



