ব্রাসিলিয়ার রাজধানীতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জয়র বলসোনারোর সমর্থকদের সমাবেশে বজ্রপাতের আঘাতে অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি বৃষ্টির মাঝেই ঘটেছে এবং জরুরি সেবা দ্রুত现场ে পৌঁছায়।
সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক একত্রিত হয়েছিল, যদিও আকাশে মেঘলা আবহাওয়া ছিল। সমাবেশের আয়োজন ব্রাজিলের আইনপ্রণেতা নিকোলাস ফেরেইরা করেন এবং তিনি সমাবেশকে বলসোনারোর জন্য সাধারণ ক্ষমা দাবি করার আহ্বান হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ব্রাজিলের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ জানায়, বজ্রপাতের ফলে আহতদের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা প্রদান করা হয়। মোট ৮৯ জনকে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৪৭ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়।
বোলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে হালকা ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর, তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান নেতৃত্বের অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড আরোপিত হয়। বর্তমানে তিনি ব্রাসিলিয়ার পাপুদা পেনিটেনশিয়ারি কমপ্লেক্সে বন্দি অবস্থায় আছেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানের শারীরিক স্বাস্থ্যের অবস্থা দীর্ঘদিনের সমস্যায় ভুগছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে ছুরিকাঘাতের শিকার হতে হয় এবং তীব্র শারীরিক আঘাতের শিকার হন। তদুপরি, তিনি কুঁচকির হার্নিয়া অপারেশন এবং বারবার হেঁচকি ওঠার সমস্যার জন্য গত ডিসেম্বর এক সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন।
এই মাসের শুরুর দিকে তিনি কারাগারে ফিরে আসার পর বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল থেকে জানা যায়, কারাগারে ফিরে আসলেও তার দেহে কোনো গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়নি।
সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলসোনারোর জন্য সাধারণ ক্ষমা দাবি করা এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করা। সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকরা সরকারকে তার শাস্তি হ্রাসের আহ্বান জানায় এবং ভবিষ্যতে তার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে।
অধিকাংশ নিরাপত্তা কর্মী এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মী ঘটনাস্থলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমাবেশ এবং বজ্রপাতের ঘটনার ফলে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাধ্য করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন সমাবেশের অনুমোদন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হয়।
ব্রাজিলের আইনপ্রণেতা নিকোলাস ফেরেইরা সমাবেশের সময় বলসোনারোর জন্য সাধারণ ক্ষমা দাবি করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
বেজরপাতের সময় বজ্রপাত সরাসরি সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের নিকটে আঘাত করে, ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা সমাবেশের নিরাপত্তা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করবে এবং সমাবেশের সময় আবহাওয়া সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করবে।



