শনি সকালেই মিনিয়াপলিসের এক রাস্তার কোণায় আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মীরা একটি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও শেয়ার হয়, যেখানে গুলিবিদ্ধ দেহের দৃশ্য দেখা যায়। এই হত্যাকাণ্ডটি ১৭ দিন আগে রেনি গুডের গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পরের দ্বিতীয় ঘটনা, যা একই সংস্থা দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং আইসিই-র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। ফেডারেল সরকারকে লক্ষ্য করে সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলছিল, তবে এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে সরকারী নীতির ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে, ফিফা (আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা) তার শান্তি পুরস্কার জাতীয় স্তরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিকে প্রদান করে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্মানিত করা হয়। পুরস্কারটি ‘অসাধারণ ও অতুলনীয় শান্তি কর্ম’কে স্বীকৃতি দেয় বলে ঘোষিত হয়েছিল। তবে পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই স্বীকৃতির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের বন্যা দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী, যার মধ্যে স্থানীয় ফুটবল প্রেমিকরাও অন্তর্ভুক্ত, এই পুরস্কারকে সমালোচনা করে, বিশেষত আইসিই-র কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর বৈপরীত্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
সেই একই দিন, স্থানীয় ফুটবল ভক্তদের জন্য প্রিয় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের শুরুতে একটি নোটিফিকেশন আসে, যেখানে তাদের ফ্যান্টাসি দল একটি গোল করে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রভাবের কারণে অধিকাংশ ভক্ত এই নোটিফিকেশন উপেক্ষা করে, এবং ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সংবাদ চ্যানেলে পরিবর্তন করে।
ম্যাচের ২০ মিনিট পর, মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেই এবং পুলিশ চিফ ব্রায়ান ও’হারা একসাথে একটি প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত হন। তারা ১৭ দিন আগে রেনি গুডের গুলিবিদ্ধ মৃত্যুর পরের একই বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং পুনরায় জনগণকে শান্তি বজায় রাখতে এবং সহিংসতা কমাতে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইনগত ও নীতি-নির্ধারণমূলক পরিবর্তন প্রয়োজন।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাগুলোর প্রতি শোক ও রাগের মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়। অনেক পরিবার ও সমর্থক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির পরিবারকে সমর্থন জানাতে সমাবেশের পরিকল্পনা করছেন, একই সঙ্গে আইসিই-র কার্যক্রমের ওপর কঠোর তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
আইসিই-র এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং ফিফা শান্তি পুরস্কারের বিতর্কের মধ্যে, মিনিয়াপলিসের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যেমন ফুটবল ম্যাচের উপভোগ, উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কীভাবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



