নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সোমবার দুপুরে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন, ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা অন্য কোনো তথ্য গোপন করে নির্বাচনে পার পেলে, ভোটের পর প্রমাণ প্রকাশিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো আপস করবেন না বলে জোর দিলেন।
এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কমিশনার স্বীকার করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক চাপ অনুভব করছেন না এবং কাজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সক্ষম।
মাছউদ ভোটারদের আহ্বান জানান, ভোটের দিন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটদান করা উচিত, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে। তিনি ভোটারদের নিরাপদে ও দ্রুত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।
কমিশনারের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো থেকে কোনো অনধিকৃত চাপ নেই এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সমান সুযোগের ভিত্তিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সব প্রার্থীর জন্য সমান প্রতিযোগিতা সম্ভব হয়।
এছাড়া তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন, যেখানে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে।
মাছউদ স্পষ্ট করে জানান, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তাদের নিবন্ধন এখনও বৈধ। আইন অনুসারে, তারা ভোটে অংশগ্রহণের অধিকার রাখে এবং কোনো বাধা আরোপ করা হবে না।
কমিশনারের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের পূর্ববর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সকল প্রার্থীর ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে কোনো লঙ্ঘন ধরা পড়লে তা দ্রুত ও কঠোরভাবে মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটারদের জন্য তথ্যবহুল গাইডলাইন প্রস্তুত করছেন, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ হয়। তারা ভোটারদের জানাচ্ছেন, ভোটের সময় কোনো অননুমোদিত প্রভাব বা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমাতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনারের এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, ভোটের পর প্রমাণ প্রকাশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর হবে, যা ভবিষ্যতে প্রার্থীদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করবে। তারা যোগ করেন, এই নীতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশন ভোটের স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটের দিন নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কমিশন প্রস্তুত।
এই ঘোষণার পর, ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে তারা নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোটের আশ্বাস পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কমিশনের এই দৃঢ় অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।



