ইসরাইল রাফাহ সীমান্ত পারাপার পুনরায় খুলবে, শর্ত হল গাজা উত্তরে শেষ ইসরাইলি বন্দীর দেহ পুনরুদ্ধার। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী রবিবার গাজা উত্তরে নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাফাহ পারাপার মে ২০২৪ থেকে প্রায় বন্ধ, যখন ইসরাইলি বাহিনী গাজা উত্তরের প্যালেস্টাইনীয় অংশ দখল করে। অক্টোবর ২০২৩-এ ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্থগিত যুদ্ধের প্রথম ধাপের সময় এটি পুনরায় খোলার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং দেহের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া না শেষ হওয়ায় সীমা সম্পূর্ণ বন্ধই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক বা মানবিক সরবরাহ এই গেটের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেনি।
ইসরাইল সরকার রাফাহ পারাপার পুনরায় খোলার শর্ত রাখে যে হামাস শেষ বন্দীর দেহ, মাস্টার সার্জেন্ট র্যান গভিলি, ফেরত দেবে। গভিলি ২০২৩ সালে গাজা থেকে অপহৃত হয়ে মারা গেছেন, তার দেহ এখনো পাওয়া যায়নি। এই শর্তটি ইসরাইলের নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বের সমন্বয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা শহরের একটি কবরস্থানকে অনুসন্ধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, অনুসন্ধান কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে পারে এবং এতে বিশেষজ্ঞ দল যুক্ত থাকবে। সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এই কাজটি দীর্ঘ সময়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেহের অবস্থান নির্ধারণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ইসরাইল ও হামাসকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ত্বরান্বিত করতে চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল গাজা সীমান্তে মানবিক সহায়তা প্রবাহ বাড়াতে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা পুনর্স্থাপন করতে কাজ করছে। উভয় পক্ষকে পরবর্তী ধাপ গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে স্থগিত যুদ্ধের শর্তাবলী মেনে চলা যায়।
রবিবার রাতের দিকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু’র অফিস রাফাহ পারাপার সীমিতভাবে পাদচারী প্রবেশের জন্য খুলবে বলে জানায়। তবে এতে ইসরাইলের পূর্ণ পরিদর্শন প্রক্রিয়া থাকবে এবং শুধুমাত্র পাদচারী প্রবেশ অনুমোদিত হবে। এই ব্যবস্থা মানবিক চলাচল সহজতর করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্য রাখে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা গভিলির দেহ খুঁজে বের করতে সব গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে এবং অনুসন্ধান শেষ হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী রাফাহ পারাপার সম্পূর্ণভাবে খুলবে। এই বিবৃতি অনুযায়ী, অপারেশনটি “ইন্টেলিজেন্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার” করে চালানো হচ্ছে এবং কোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
পূর্বে সেনাবাহিনী গাজা উত্তরের হলুদ রেখার (Yellow Line) আশেপাশে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালায়। হলুদ রেখা হল সেই সীমা যা স্থগিত যুদ্ধের চুক্তিতে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে এবং মানবিক সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গেট হিসেবে বিবেচিত। সূত্র জানায়, গভিলির দেহের সম্ভাব্য সমাধি এই এলাকায় থাকতে পারে, তাই বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাফাহ পারাপার পুনরায় খোলার শর্ত হিসেবে দেহের পুনরুদ্ধার যুক্ত করা ইসরাইলের নিরাপত্তা ও মানবিক উদ্বেগের সমন্বয়। একই সঙ্গে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা এবং গাজা জনগণের মানবিক অবস্থার উন্নতি দুটোই এই পদক্ষেপের সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।
যদি অনুসন্ধান সফল হয়, রাফাহ পারাপার পাদচারী প্রবেশের জন্য সীমিত সময়ের জন্য খুলবে, এবং পরবর্তীতে পূর্ণ বাণিজ্যিক ও মানবিক সরবরাহের জন্য ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায় এই পদক্ষেপটি কূটনৈতিক সমঝোতার সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং পুনর্নির্মাণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজা উত্তরে শেষ বন্দীর দেহের অনুসন্ধান এবং রাফাহ পারাপার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ইসরাইল-হামাস সংঘাতের বর্তমান পর্যায়ে কূটনৈতিক ও মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এই দুই বিষয়ের সমাপ্তিতে থাকবে, যাতে স্থায়ী শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। এই উন্নয়নগুলো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে প্রভাব ফেলবে।



