19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাভারত এ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: সমঝোতা ও অনুমোদন চ্যালেঞ্জ

ভারত এ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: সমঝোতা ও অনুমোদন চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘকালীন আলোচনার পর, ভারত এ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বহু বছর ধরে প্রত্যাশিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের প্রান্তে পৌঁছেছে। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের সূচক হতে পারে।

চুক্তির মূল শর্তগুলোতে পণ্য, সেবা এবং বাণিজ্য নীতির সমন্বয় করা হয়েছে, তবে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সংক্রান্ত আলোচনা আলাদা ট্র্যাকের মাধ্যমে চালানো হবে। ফলে এফটিএতে কেবল পণ্য ও সেবার প্রবাহের ওপর জোর দেওয়া হবে, অন্য বিষয়গুলো পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারিত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ন্যূনতম এক বছর সময় লাগতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের একটি ভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-দক্ষিণ আমেরিকা চুক্তিকে ইউরোপীয় জোটের শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে।

অনুমোদন শেষ হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গহনা শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, যা গত বছরের আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্কের প্রভাবের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই সেক্টরগুলো পুনরুদ্ধার পেলে ভারত এ-র রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এটি চার বছরের মধ্যে ভারত এ-র নবম বাণিজ্য চুক্তি, যা বিশ্ব বাণিজ্যের রক্ষণশীল প্রবণতার মুখে নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশলকে প্রতিফলিত করে। নতুন দিল্লি এখন বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চুক্তি ভিত্তিক নীতি গ্রহণে ত্বরান্বিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। ভারত এ-র দ্রুত বর্ধনশীল $৪২০ বিলিয়ন অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ইউরোপের জন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে ভারত এ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দু’দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার মোট বাণিজ্য $১৯,০০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিসরে ভারত এ ইউরোপীয় ইউনিয়নে $৩,০০০ কোটি পরিষেবা এবং $৭,৬০০ কোটি পণ্য রপ্তানি করেছে।

ভারত এ-র পণ্যের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় শুল্ক মাত্র ৩.৮ শতাংশ, তবে শ্রমঘন সেক্টর যেমন টেক্সটাইল ও পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশে পৌঁছায়। এই পার্থক্যটি চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা রপ্তানিকৃত পণ্যের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে।

বাণিজ্য নীতি ছাড়াও চুক্তিতে সেবা খাতের প্রবেশদ্বার সহজতর করা, ডিজিটাল সেবা ও বৌদ্ধিক সম্পদ সুরক্ষার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই ধারা ভবিষ্যতে ভারত এ-র আইটি ও সফটওয়্যার সেবার ইউরোপীয় বাজারে সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভারত এ-র সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা কেবল শুল্ক হ্রাস নয়, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি হ্রাসেরও সুযোগ দেয়। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ সরবরাহ নেটওয়ার্ক গঠন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বাড়াবে।

চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সূচি অনিশ্চিত থাকলেও, উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক সুবিধা ও কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে দ্রুত সমাপ্তি চায়। পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে অতিরিক্ত আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে, তবে মূল শর্তগুলো ইতিমধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃত হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, ভারত এ-ইউরোপীয় ইউনিয়নের এফটিএ স্বাক্ষর ও অনুমোদন উভয়ই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ, শুল্ক হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা দীর্ঘ হতে পারে, তবে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় অর্থনীতির জন্য নতুন বৃদ্ধির পথ খুলে যাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments