রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFR) এই বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যা তার ৫৫তম সংস্করণ চিহ্নিত করে। ডাচ শহর রটারড্যামে শতাধিক চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিং, আলোচনা সেশন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ইভেন্টের আয়োজন করা হবে। উৎসবের লক্ষ্য হল জনপ্রিয় সিনেমা থেকে শুরু করে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া আর্টহাউস কাজ পর্যন্ত সব ধরণের চলচ্চিত্রকে একত্রে উপস্থাপন করা।
প্রোগ্রামে নতুন স্বর ও পরিচিত মুখের মিশ্রণ দেখা যাবে। টিল্ডা সুইন্টনের মতো আন্তর্জাতিক স্তরের অভিনেত্রী, ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ পরিচালকের কলে বার মেনডনসা ফিলহো এবং জন লিথগোয়ের উপস্থিতি দর্শকদের আকর্ষণ করবে। এই বিশিষ্ট নামগুলো পাশাপাশি উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজও স্ক্রিনে আসবে, যা উৎসবকে সমসাময়িক সৃজনশীলতার এক মঞ্চে পরিণত করবে।
বিশেষভাবে নারীর চলচ্চিত্রের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর উইমেনের ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ। নারী পরিচালকদের কাজকে কেন্দ্র করে একটি সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে, যাতে লিঙ্গ সমতা ও নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প বলার প্রচেষ্টা তুলে ধরা হবে। এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইজিপ্টের একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতার রেট্রোস্পেকটিভও প্রোগ্রামের অংশ। তার ক্যারিয়ারকে পুনরায় মূল্যায়ন করার জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলোকে একত্রে প্রদর্শন করা হবে, যা দর্শকদের মিশরীয় সিনেমার ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রবণতা সম্পর্কে গভীর ধারণা দেবে।
অন্যদিকে, স্থানচ্যুত পরিচালক ও শরণার্থী শিল্পীদের কাজকে সমর্থন করার জন্য একটি বিশেষ শোও রয়েছে। ইরানীয় পরিচালক মোহাম্মদ রাসুলফের চলচ্চিত্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গত বছর ক্যাট ব্ল্যাঙ্কেটের সহায়তায় গড়ে ওঠা তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়িত। এই তহবিলটি শরণার্থী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
উৎসবের পরিচালক ভাঞ্জা কালুদজেরসিক প্রোগ্রামিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশাল সংখ্যক চলচ্চিত্রের মধ্যে থেকে বিশ্বে বর্তমান ঘটমান বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করা এবং কম প্রতিনিধিত্বপ্রাপ্ত কণ্ঠস্বরকে সামনে আনা তাদের প্রধান কাজ। তিনি বলেন, IFFR একটি বিস্তৃত উৎসব হলেও বিশেষ প্রোগ্রাম ও ফোকাস থিমের মাধ্যমে অপ্রচলিত বিষয়গুলোকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়।
রটারড্যাম ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্লেয়ার স্টুয়ার্টও প্রোগ্রামিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও আর্টহাউসের মিশ্রণ দর্শকদের বিভিন্ন স্বাদ পূরণ করে এবং একই সঙ্গে শিল্পের সীমানা প্রসারিত করে। বিশেষ থিমগুলোকে মূল প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়, যা দর্শক ও শিল্পী উভয়েরই চাহিদা মেটায়।
উভয় পরিচালক ২০২৬ সংস্করণের জন্য কিছু প্রবণতা উল্লেখ করেছেন। তারা লক্ষ্য করেন যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উত্থান এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবর্তন চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও বিতরণ পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে। ফলে, ভবিষ্যৎ উৎসবে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশগত থিম এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের গল্পের স্থান পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
সারসংক্ষেপে, রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এই সংস্করণটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ মঞ্চ প্রদান করবে। বৈচিত্র্যময় প্রোগ্রাম, নারীর সিনেমা, শরণার্থী পরিচালক এবং বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর অংশগ্রহণ একত্রে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে ইচ্ছুক সকলকে এই উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।



