ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আজ ঢাকা সেনাবাহিনীর হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ভয়মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
ইন্টার‑সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) আজ একটি প্রেস রিলিজে জানিয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের এই নির্দেশনা বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল।
বৈঠকের শুরুর দিকে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সশস্ত্র বাহিনীর “গৌরবময় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা”কে দেশের চাহিদা পূরণে উল্লেখ করে, দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগীয় প্রধান স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস.এম. কামরুল হাসান, যাঁরা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সশস্ত্র বাহিনীর কাছে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনের সময় কোনো পক্ষপাতিত্ব না দেখা যায় এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, সকল শাখা—সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী—একত্রে কাজ করে নির্বাচনের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা নিরাপত্তা, ভোট কেন্দ্রের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য অশান্তি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, পাশাপাশি কিছু অতিথি ও মিডিয়ার প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনা অনুসারে, সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনের সময় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করবে।
বৈঠকের শেষে সকল পক্ষ একমত হন যে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস উল্লেখ করেন যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন ও পেশাদারিত্বের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনের সময় নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়মূলক কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা প্রস্তুত করার কথা জানান।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর আইএসপিআর জানায়, এই নির্দেশনা ও সমন্বয়মূলক উদ্যোগগুলো ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



