মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের সালামানকা শহরে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) একটি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তির পর মাঠের মধ্যে সশস্ত্র আক্রমণকারীরা ১১ জনকে গুলিতে গুলি করে প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন এবং অতিরিক্ত ১২ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশুও অন্তর্ভুক্ত, যা ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও শোকময় করে তুলেছে।
মেয়র সেসার প্রিয়েতো ফেসবুকে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রকাশ করে জানান, এই হামলা শহরের সামাজিক কাঠামোকে ভেঙে ফেলেছে এবং রাজ্যব্যাপী সহিংসতার ঢেউ ত্বরান্বিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষের ওপর আধিপত্য গড়ে তুলতে চায়, তবে সেসব চেষ্টাকে বাধা দেওয়া হবে।
সালামানকার ফুটবল মাঠে গুলি চালানোর পেছনের উদ্দেশ্য ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনও অজানা, তবে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী আক্রমণকারীরা স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত গুলি চালিয়ে বড় ক্ষতি করে। গুলিবিদ্ধদের অধিকাংশই ম্যাচের দর্শক ও মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন। গুলির তীব্রতা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কোনো স্পষ্ট প্যাটার্ন দেখা যায়নি, যা তদন্তকে জটিল করে তুলছে।
গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ঘটনাটির উপর তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেছে। অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সম্ভাব্য অপরাধীদের সনাক্ত করা এবং আঞ্চলিক, রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের প্রথম ধাপে গুলি চালানোর সময়ের ভিডিও রেকর্ড, গুলিবিদ্ধদের পরিচয় ও গুলির ক্যালিবার নির্ণয় করা হবে।
মেয়রের বক্তব্য অনুসারে, এই ধরনের সহিংসতা রাজ্যের নিরাপত্তা নীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে অপরাধী গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, পুলিশ দল গুলি চালানো স্থানে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে গুলি চিহ্ন, গুলি-ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে, গুলিবিদ্ধদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি মেডিকেল সেবা মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুলি চালানো অপরাধটি মেক্সিকোর ফেডারেল অপরাধ কোডের অধীনে গৃহীত হবে, যা গুলি চালিয়ে ১০ বা ততোধিক মানুষকে হত্যা করলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড নির্ধারণ করে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহে ত্বরান্বিত কাজ করা হবে।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি দাবি করেছে। সামাজিক মিডিয়ায় বহু পোস্টে মেয়র ও নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, মানবাধিকার সংস্থা ঘটনাটিকে ‘গুরুতর সামাজিক ভাঙ্গন’ হিসেবে উল্লেখ করে, অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, স্থানীয় আদালত সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক গ্রেফতার আদেশ জারি করতে পারে। যদি সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়, তবে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে বিচার হবে।
সালামানকা শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির, তবে রাজ্য ও ফেডারেল স্তরে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। মেয়র প্রিয়েতো এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।



