চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের অফিসে সোমবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিলেন্স‑অবজারভেশন টিমের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের গ্লোবাল ইমেজ, অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের গণতান্ত্রিক চিত্রকে গঠন করবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতিকে প্রভাবিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ভর করবে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর। যদি প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে দেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসা‑বাণিজ্য, বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগগুলোও এই নির্বাচনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। অন্যদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব ঘটলে তা ব্যবসায়িক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কমিশনার সানাউল্লাহ অতীতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তবে পূর্বে ঘটিত অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলো পুনরায় দেখা না দেওয়া সম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বকে জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনুচিত হস্তক্ষেপ বা একতরফা নির্দেশনা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার বা কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ, প্রভাব বা একতরফা নির্দেশনা দেওয়া হবে না, এ কথায় তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি জোর দেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করবে। এই নীতি অনুসরণ করলে নির্বাচনের ফলাফলকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা সহজ হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তিনি পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। সানাউল্লাহ বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি সকল কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, যিনি সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নেন এবং কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।
এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে এবং প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করবে। সানাউল্লাহয়ের মন্তব্য অনুসারে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।



