20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটি ঘোষণা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১১ ও ১২ তারিখে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য সর্বজনীন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

একই গেজেটের মধ্যে ফেব্রুয়ারি ১০ তারিখকে শিল্পক্ষেত্রের কর্মী ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে কাজ করা শ্রমিকদের এই অতিরিক্ত ছুটি ভোটের প্রস্তুতি ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, পরামর্শক পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ বুধবার ও বৃহস্পতিবার, ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এই দুই দিনকে ভোটের দিন হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছুটির আওতায় সরকার, আধা-সরকার, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের কর্মশক্তি এই সময়ে অবসর পাবে এবং ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ভোটদান কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে। এই সময়সীমা নির্ধারণের মূল কারণ ভোটারদের জন্য একক সময়ে সমন্বিত ভোট প্রদান নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

ভোটের দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় পরের দিন শুক্রবার ও শনিবার স্বাভাবিক সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে থাকবে। ফলে সাধারণ কর্মচারীরা মোট চার দিনের ধারাবাহিক ছুটি পাবে, আর শিল্পক্ষেত্রের কর্মীরা অতিরিক্ত একদিনের ছুটি পেয়ে পাঁচ দিনের ধারাবাহিক বিশ্রাম উপভোগ করবে।

বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ও শিল্পমাধ্যমের কিছু প্রতিনিধি দীর্ঘমেয়াদী ছুটির ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, অতিরিক্ত ছুটি বিশেষ করে শিল্পখাতে অস্থায়ী কাজের বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং তা অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, শ্রমিক ইউনিয়ন ও কর্মী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, বিশেষ ছুটি কর্মীদের নিরাপদে ভোট দিতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণে সহায়তা করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে ছুটি ঘোষণা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে এবং ফলস্বরূপ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, ছুটির সময়কালে রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পেইন চালিয়ে যেতে পারবে, যা ভোটার সংযোগ বাড়াবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। গেজেটের মাধ্যমে ঘোষিত ছুটির দিনগুলোতে নিরাপদ পরিবহন, ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপে, ফেব্রুয়ারি ১০ থেকে ১২ পর্যন্ত নির্ধারিত ছুটির মাধ্যমে সরকার ও শিল্পক্ষেত্রের কর্মীরা উভয়ই ভোটের প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে সাময়িক পরিবর্তন আসবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণে সহায়তা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments