শ্রেয়াস ইয়ার, ভারত এ দলের মাঝারি ক্রমের ব্যাটসম্যান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টি২০ সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নেবেন না, এ বিষয়ে বর্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে নেওয়া হয় এবং ইয়ারকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইয়ারকে সাম্প্রতিক সময়ে পেশীর অস্বস্তি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে দেখা গিয়েছিল, যা প্রথম টি২০ ম্যাচে তার অনুপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিকিৎসক দলের মতে, অতিরিক্ত চাপের ফলে তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে, তাই অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়াতে তাকে সিরিজের বাকি অংশে বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছে।
দল ব্যবস্থাপনা ইয়ারের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানিয়ে বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক দায়িত্ব থেকে দূরে থাকবেন। তিনি ইয়ারের স্বাস্থ্যের প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে চান।
ইয়ারের অনুপস্থিতি ভারত এ ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন আনবে। কোচিং স্টাফ বলছেন, বাকি ম্যাচগুলোতে অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ বাড়বে এবং তারা শূন্যস্থান পূরণে প্রস্তুত। এই পরিবর্তন দলকে নতুন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেবে, যদিও ইয়ারের অভিজ্ঞতা মিস হবে।
প্রথম টি২০ ম্যাচে ইয়ার না থাকলেও ভারত এ দল শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তবে তার অভাবের কারণে মাঝারি ক্রমের স্থিতিশীলতা কিছুটা কমে গেছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কেমন প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি দুইটি টি২০ ম্যাচে দলকে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠন করা হবে। এই সুযোগে নতুন মুখগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে, যা দলের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলো আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রথমে কলকাতায় দ্বিতীয় টি২০ এবং পরে মুম্বাইতে তৃতীয় টি২০ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ম্যাচই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হবে এবং ফলাফল সিরিজের চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করবে।
কোচিং স্টাফ ইয়ারের অনুপস্থিতি নিয়ে বলছেন, দলটির গভীরতা রয়েছে এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে বর্তমান দল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ইয়ারের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে ভবিষ্যৎ সিরিজে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ডের একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইয়ারের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হবে। এই নীতি দলকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ভক্তদের মধ্যে ইয়ারের অনুপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ভক্ত তার দ্রুত ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বেশিরভাগই তার স্বাস্থ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্রামকে সমর্থন করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ইয়ারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা পোস্টগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।
ইয়ারের পূর্বের নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সে তিনি মাঝারি গড়ে ৩৫-৪০ রান করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা দলকে বড় ম্যাচে মানসিক শক্তি প্রদান করত, তাই তার অনুপস্থিতি দলের কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনবে।
সারসংক্ষেপে, ইয়ারের বাকি সিরিজে না থাকা ভারত এ দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, তবে দলটি নতুন কৌশল ও তরুণ খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে। সিরিজের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে ইয়ারের সুস্থতা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রাম নেবেন এবং ভবিষ্যতে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেবেন।



