আন্দ্রপ্রদেশের অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল এলাকায় ৯ জানুয়ারি দুপুরে এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপককে রাস্তায় ঘটিত ‘দুর্ঘটনা’র ভান করে এইচআইভি ভাইরাসের ইনজেকশন দেওয়া হয়। ঘটনাটি তদন্তে উঠে এসেছে যে, একাধিক সন্দেহভাজন পরিকল্পনা করে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে, পরে তা ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর দেহে ইনজেকশন দিয়েছে।
ভুক্তভোগী, যিনি কুরনুলের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত, কাজের শেষের পর স্কুটারে বাড়ি ফেরার পথে বিনায়ক ঘাট এলাকায় কেসি ক্যানেলের কাছে একটি মোটরসাইকেল দ্বারা ধাক্কা খায়। ধাক্কা খাওয়ার পর তিনি রাস্তায় পড়ে আঘাত পায়। একই মুহূর্তে দুইজন ব্যক্তি, যারা মোটরসাইকেলে ছিলেন, ‘সাহায্য’ করার ভান করে তার কাছে এগিয়ে আসে। তারা অটোরিকশা (এক ধরনের যন্ত্র) ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর শিরায় ইনজেকশন দেয়। ভুক্তভোগী চিৎকার করতে শুরু করলে সন্দেহভাজনরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের মতে, এই ‘দুর্ঘটনা’ নাটকটি পরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্তরা, যাদের মধ্যে কুরনুলের বাসিন্দা বি. বয়া বসুন্ধরা (৩৪), আদোনির একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স কঙ্গে জ্যোতি (৪০) এবং তার দুই সন্তান (বয়স প্রায় বিশের কোঠা) অন্তর্ভুক্ত, পূর্বে একটি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের থেকে এইচআইভি সংক্রমিত রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। তারা গবেষণার নামে এই রক্ত সংগ্রহ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেছিল এবং পরে ‘দুর্ঘটনা’ নাটকের সময় ভুক্তভোগীর দেহে ইনজেকশন দেয়ার জন্য ব্যবহার করেছিল।
মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে যুক্ত এই পরিকল্পনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধের সূত্র পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর প্রাক্তন প্রেমিক অন্য কোনো নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় বসুন্ধরা তা মেনে নিতে পারেননি এবং দম্পতিকে আলাদা করার জন্য ষড়যন্ত্র গড়ে তোলেন। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা ‘দুর্ঘটনা’র ভান করে ভুক্তভোগীর শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার পরপরই, ১০ জানুয়ারি, ভুক্তভোগীর স্বামী, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, কুরনুল থ্রি টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) এর ধারা ১২৬(২), ১১৮(১), ২৭২ এবং ৩(৫) অনুসারে মামলা রেজিস্টার করা হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা, নার্স কঙ্গে জ্যোতি এবং তার দুই সন্তান। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটানোর ইচ্ছাকৃত অপরাধ, রোগীর রক্তের নমুনা চুরি, এবং পরিকল্পিত ‘দুর্ঘটনা’র মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভুক্তভোগীর স্বামী ও অন্যান্য পরিবারিক সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া, রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় যে সরকারি হাসপাতালের নথি ও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তা যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে আইনি দায়িত্বে টানা হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রকাশ পেয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ উভয়ই এই ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নথিপত্র ও তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে রক্তের অপব্যবহার না হয়। একই সঙ্গে, রোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা হবে।
এই মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হবে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।



