গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নতুন সোমবাজার এলাকায় সোমবার দুপুর ১১ টার কাছাকাছি দুই সন্তানসহ এক নারী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন, এতে তিনি ও তার সন্তানরা প্রাণ হারিয়ে। ঘটনাটি নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়নেপাড়া রেল ক্রসিংয়ে ঘটেছে, যেখানে রেললাইনটি শহরের প্রধান পরিবহন ধারা।
মৃতদেহের পরিচয় ২৫ বছর বয়সী হাফেজা খাতুন মালা গাজীপুরের, যিনি মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তার সঙ্গে ছিল আট বছর বয়সী মেয়ে তাবাসসুম, যিনি প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী, এবং পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মারুফ। উভয় শিশুই স্কুলে যাওয়ার পথে ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ দল পাঠানো হয় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অফিসার ওয়াকিং সাপোর্টে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে গেছেন। রেলস্টেশন মাস্টারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রাথমিক তথ্য প্রদান করেছেন।
মালার স্বামীর নাম তৎক্ষণাত্ জানা যায়নি, তবে তার শ্বশুরবাড়ি জয়দেবপুর থানার আতুরী এলাকায় অবস্থিত বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়, যা সম্ভবত ঘটনার মূল কারণের দিকে ইঙ্গিত করে।
মালার পরিবারে জানানো হয়েছে, তিনি সকালে মেয়েকে ইউনিফর্ম পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি সন্তানদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের পথে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। চলমান রেললাইনের নিচে পড়ার ফলে মা ও দুই শিশুর দেহ ভেঙে যায়।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে রেললাইনটি সক্রিয় অবস্থায় ছিল এবং ট্রেনটি তৎক্ষণাৎ চলমান অবস্থায় ছিল। রেলস্টেশন কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় চিকিৎসা বিভাগকে জানিয়ে দেন।
মালার পরিবারে জানানো হয়েছে, তিনি শ্বশুরবাড়িতে সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। শ্বশুরবাড়িতে সকালে একটি তর্কের পর তিনি বাড়ি ছেড়ে গিয়ে এই চরম কাজটি করেন। পরিবারে এই ঘটনার শোক প্রকাশের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও পারিবারিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, রেললাইন ক্যামেরা রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও রেললাইন নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে, যাতে অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটে। এছাড়া, রেলস্টেশন কর্মীদের জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা মালা ও তার সন্তানদের স্মরণে শোকস্মরণী আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন এবং মানসিক চাপের মোকাবিলায় পরামর্শদাতা সেবা প্রদান করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য জানানো হবে। বর্তমানে, আত্মহত্যা মামলায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।



