রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত দুইটায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় দুর্নীতি একটি বিশাল সমস্যা এবং এর দায়ী ও পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণ ইতিমধ্যে সচেতন। একই সময়ে তিনি মাদক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শহরের প্রায় বিশটি স্থান থেকে অবৈধ মাদকের লেনদেন ঘটে এবং সেসব স্থানকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, দুর্নীতির মূল কাঠামোকে ভেঙে ফেলতে হবে এবং মাদক ব্যবসার গোপন নেটওয়ার্ককে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুইটি সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হবে। তিনি অতিরিক্তভাবে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, কাঁচপুরের চারপাশে যে বিশটি স্পট থেকে মাদক বিক্রি হয়, সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই স্পটগুলোতে গোপন গুদাম, বিক্রয় কেন্দ্র ও পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে, যা ধ্বংস করা হলে মাদক প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগবে। তার লক্ষ্য হল, স্থানীয় পুলিশ ও বিশেষ দফতরের সমর্থনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং মাদক লেনদেনের আর্থিক প্রবাহকে ব্লক করা।
যুব সমাজের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সম্পর্কেও তারেক রহমানের পরিকল্পনা প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব কমিয়ে সামাজিক অশান্তি হ্রাস করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, কারিগরি কোর্স ও বিদেশি শ্রম বাজারের তথ্য প্রদান এই পরিকল্পনার মূল অংশ।
এই ঘোষণার পটভূমিতে তারেক রহমানের পূর্বের দুর্নীতি ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে, যা সাম্প্রতিক মাসে মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছে। তিনি পূর্বে একই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে কথা বলেছিলেন এবং সরকারী নীতির সমালোচনা করেছেন। তার এই নতুন প্রতিশ্রুতি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে।
ভবিষ্যতে তারেক রহমানের দল এই পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা হবে এবং নির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোকে যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে সহায়তা করবে।



